শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে সাত ধরনের ক্যানসার, কারণ কী?

হোম » সর্বশেষ » তরুণদের মধ্যে বাড়ছে সাত ধরনের ক্যানসার, কারণ কী?
শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬


 

তরুণদের মধ্যে বাড়ছে সাত ধরনের ক্যানসার, কারণ কী?

সাগরকন্যা হেল্থ ডেস্ক

 

যে বয়সে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখার কথা, ক্যারিয়ার ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সেই শরীরে বাসা বাঁধছে ক্যানসার। একসময় যে রোগকে মূলত বয়স্কদের অসুখ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, তা এখন তুলনামূলক কম বয়সীদের মধ্যেও বাড়ছে। কিন্তু কেন এই পরিবর্তন? জীবনযাপন, পরিবেশদূষণ, নাকি শরীরের ভেতরে ঘটে চলা আরও জটিল কোনো পরিবর্তন এর জন্য দায়ী?

 

ওয়ার্ল্ড ক্যানসার রিসার্চ ফান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সাত ধরনের ক্যানসারের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ক্যানসারগুলো হলো স্তন, অন্ত্র, কিডনি, লিভার, অগ্ন্যাশয়, প্রোস্টেট ও জরায়ুর ক্যানসার।

 

২০০১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রবণতা চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫০ বছরের কম বয়সী পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যানসার শনাক্তের সংখ্যা ১৫৮ থেকে বেড়ে ৬৪০ হয়েছে। অর্থাৎ, এ সংখ্যা চার গুণেরও বেশি।

 

কম বয়সীদের মধ্যে অন্ত্রের ক্যানসার বৃদ্ধির প্রবণতাও উদ্বেগজনক। নারীদের ক্ষেত্রে প্রতি লাখে আক্রান্তের হার ৩ দশমিক ৮ থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৩ হয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৪ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৪। জরায়ুর ক্যানসারে আক্রান্তের হারও দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

 

কিডনি ক্যানসারের ঘটনাও বেড়েছে নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে। আর ৫০ বছরের কম বয়সী নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হচ্ছে স্তন ক্যানসার। এ রোগে আক্রান্তের হার প্রতি লাখে ৪২ থেকে বেড়ে ৪৭ দশমিক ৫ হয়েছে।

 

শুধু ইংল্যান্ডে নয়

 

তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের এই প্রবণতা শুধু ইংল্যান্ডে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। তবে কেন কম বয়সীদের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঘটনা বাড়ছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাননি গবেষকেরা।

 

স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণকে সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস, ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ এবং আঁশযুক্ত খাবারের ঘাটতি কিছু ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

 

এর পাশাপাশি পরিবেশদূষণ, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, প্লাস্টিকের সংস্পর্শ, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এবং অন্ত্রের অণুজীবের পরিবর্তন ক্যানসারের ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়েও গবেষণা চলছে। এসব উপাদানের প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে এবং একাধিক প্রজন্মের মধ্যে কীভাবে কাজ করতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা।

 

গবেষকদের মতে, ক্যানসার শনাক্তকরণে উন্নতি এই বৃদ্ধির একটি অংশ ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে শুধু উন্নত শনাক্তকরণব্যবস্থা দিয়ে পুরো প্রবণতার ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না।

 

তবে কি তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের মহামারি?

 

পরিসংখ্যানে ক্যানসারের ঘটনা বাড়লেও, এখনো রোগটি মূলত বয়স্কদের মধ্যেই বেশি দেখা যায়। ৫০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে ক্যানসার তুলনামূলকভাবে বিরল। তাই নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঘটনা বৃদ্ধির অর্থ এই নয় যে তরুণদের মধ্যে ক্যানসারের মহামারি শুরু হয়েছে।

 

তবে এই প্রবণতা জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। কেন কিছু ক্যানসার কম বয়সীদের মধ্যে বাড়ছে, কোন পরিবেশগত ও জীবনযাপনসংক্রান্ত বিষয় এতে ভূমিকা রাখছে এবং শরীরের জিনগত পরিবর্তন ও অন্ত্রের অণুজীবের সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটা গভীর, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

 

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং তামাক এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ, বয়স কম হলেই ক্যানসারের ঝুঁকি একেবারে নেই, এমন ধারণা সঠিক নয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৩৯:৩০ ● ২৭ বার পঠিত