বুধবার ● ৭ অক্টোবর ২০২৬
কলাপাড়ায় ১৮ হাজার জেলে কার্ডধারীর ৮ হাজারই প্রকৃত জেলে নন
হোম » জেলে-মৎস্য » কলাপাড়ায় ১৮ হাজার জেলে কার্ডধারীর ৮ হাজারই প্রকৃত জেলে নন
![]()
মেজবাহউদ্দিন মাননু
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৮ হাজার ৩০৫ জন জেলে কার্ডধারী থাকলেও তাঁদের মধ্যে অন্তত ৮ হাজারই প্রকৃত জেলে নন বলে মৎস্য অফিস ও মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, প্রকৃত শত শত জেলে এখনো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। ফলে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞাকালে সরকারের খাদ্য সহায়তা ও বিশেষ প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত জেলেরা।
ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ৮ হাজার কার্ড বাতিল এবং নতুন করে প্রকৃত জেলেদের তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ কয়েক বছর ধরে ঝুলে আছে। এ অবস্থায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় প্রকৃত জেলেদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এবার প্রণোদনার চাল বিতরণেও বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মৎস্য অফিস ও মাঠপর্যায়ের জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুরনো তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে পেশা পরিবর্তন, মৃত্যু, এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া এবং প্রকৃত জেলে নন - এমন ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্তত তিন বছর আগে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে নতুন করে জেলে তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রায় ১১ হাজার আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের কাজও চলছে।
তবে নতুন আবেদনকারীদের মধ্যেও অনেক ভুয়া নাম রয়েছে বলে দাবি করেছেন পেশাদার জেলেরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রকৃত জেলেদের নাম বাদ রেখে তালিকায় অপ্রাসঙ্গিক ব্যক্তিদের নাম থাকায় বছরের পর বছর তাঁরা নিষেধাজ্ঞাকালীন ভিজিএফের খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রকৃত জেলেদের তালিকাভুক্ত করা এবং ভুয়া নাম বাদ দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, প্রতিবাদ ও লিখিত অভিযোগ করেছেন জেলেরা। নিষেধাজ্ঞাকালে জেলে সহায়তার চাল বিতরণের সময়ও তাঁরা সমাবেশ করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা যাচাই-বাছাই কমিটির উদ্যোগে নদী ও সাগরে মাছ আহরণকারী প্রকৃত জেলেদের নতুন তালিকা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
কুয়াকাটার জেলে হানিফ মাঝি বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার সামনে খসড়া তালিকা টানিয়ে দেওয়া দরকার। এতে তালিকায় কোনো রদবদল বা ভুল থাকলে স্থানীয় জেলেরা তা জানাতে পারবেন।
সদ্য বদলি হওয়া কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা এর আগে জানিয়েছিলেন, পুরনো তালিকা যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত জেলেদের নাম সংবলিত নতুন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এতে পুরনো তালিকা থেকে অন্তত ৮ হাজার নাম বাদ পড়তে পারে। পেশা পরিবর্তন, মৃত্যু, এলাকা ত্যাগ এবং প্রকৃত জেলে নন - এমন ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন করে তালিকাভুক্তির জন্য পাওয়া প্রায় ১১ হাজার আবেদনও যাচাই করা হচ্ছে। প্রকৃত জেলেদের নামে জেলে পরিচয়পত্র দেওয়ার লক্ষ্যেই এ কার্যক্রম চলছে বলে জানান তিনি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, সাগর ও নদীতে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞাকালে সরকারের দেওয়া বিশেষ খাদ্য সহায়তার চাল প্রকৃত জেলেদের মধ্যে বিতরণ নিশ্চিত করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৭:৪১ ● ৪৫ বার পঠিত
