মঙ্গলবার ● ৬ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনায় পূর্ণাঙ্গ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি

হোম » জেলে-মৎস্য » বরগুনায় পূর্ণাঙ্গ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি
মঙ্গলবার ● ৬ অক্টোবর ২০২৬


 

বরগুনায় পূর্ণাঙ্গ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনার উপকূলীয় নদ-নদীতে ইলিশের বিচরণ ও প্রজনন নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য পূর্ণাঙ্গ মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরগুনায় এমন গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হলে ইলিশের বিচরণপথ, প্রজননক্ষেত্র, খাদ্যচক্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ সম্ভব হবে। এতে ইলিশ সংরক্ষণ ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় বরগুনায় মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও মৎস্যজীবীদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এ দাবি ওঠে।

 

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপপরিচালক মো. মহসীন, সিনিয়র সহকারী পরিচালক আনিসুজ্জামান ও বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন।

 

কর্মশালায় আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাস, বরগুনা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন মিনা, গণমাধ্যমকর্মী জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা, সাইফুল ইসলাম মিরাজসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

 

কর্মশালায় উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশনে বলা হয়, পায়রা নদীর মোহনা থেকে মির্জাগঞ্জ হয়ে বিষখালী, বলেশ্বর থেকে পিরোজপুরের জিয়ানগর হয়ে কচা, বিষখালী থেকে কীর্তনখোলা এবং আন্ধারমানিক থেকে কলাপাড়া ও গলাচিপা হয়ে তেঁতুলিয়া নদী পর্যন্ত ইলিশের বিচরণ রয়েছে।

 

বক্তারা বলেন, গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন হলে ইলিশের বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্রের পাশাপাশি পানির গুণগত মান, খাদ্যচক্র, মাছের প্রজাতিগত পরিবর্তন, উৎপাদনশীলতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক গবেষণা করা সম্ভব হবে। এসব গবেষণালব্ধ তথ্য কাজে লাগিয়ে জেলেদের জীবিকা ও মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া যাবে।

 

কর্মশালায় ইলিশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্যও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে অক্টোবর মাসে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা সংরক্ষণ, ১১ এপ্রিল থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা এবং জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অবৈধ বিহেন্দি জালের বিরুদ্ধে কম্বিং অপারেশন।

 

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বরগুনায় মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে ২১৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ৪২৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১ হাজার ৫৯৮টি অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। ৭৯টি মামলায় ১১৫ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ১৯ লাখ ১২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৫:৩১ ● ২৯ বার পঠিত