সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬
এমবিবিএস পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগ, অভিযানের আগেই উধাও ভুয়া চিকিৎসক
হোম » সর্বশেষ » এমবিবিএস পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগ, অভিযানের আগেই উধাও ভুয়া চিকিৎসক
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর
পিরোজপুর শহরের নড়াইল পাড়ায় নিউ ফেয়ার হেলথ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগ উঠেছে মো. গোলাম মাসুদ মৃধার বিরুদ্ধে। তার চিকিৎসা-সংক্রান্ত ডিগ্রি ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালেও অভিযানের সময় তাকে পাওয়া যায়নি।
রবিবার দুপুর ৩টার দিকে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমানের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের খবর পেয়ে কথিত ওই চিকিৎসক আগেই সেখান থেকে চলে যান।
অভিযানের সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার নামে থাকা ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন সরিয়ে ফেলা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষকে তাকে দিয়ে আর রোগী না দেখানোর জন্য সতর্ক করা হয়।
ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাওয়া ভিজিটিং কার্ড ও প্রচারসামগ্রীতে মো. গোলাম মাসুদ মৃধাকে এমবিবিএস, এমডি (চর্ম ও যৌন), ডিইউএমএস (ইউনানী মেডিসিন) ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাকে চর্ম, যৌন, কুষ্ঠ, অ্যাজমা ও অ্যালার্জি রোগের বিশেষজ্ঞ হিসেবেও পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডিগ্রির বিষয়ে যাচাই করে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। তিনি ‘প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ থেকে এমবিবিএস এবং ডার্মাটোলজিতে এমডি ও পিএইচডি করেছেন বলে দাবি করেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় তিনি চেম্বার করেন বলেও জানা গেছে।
সূত্রটি আরও দাবি করেছে, ‘প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ থেকে এমবিবিএসের ভুয়া সনদ বিক্রির অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পরিচয়দানকারী এন এম হক ওরফে ডা. সাইদুর রহমানকে ২০২২ সালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছিল।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান বলেন, ‘ডা. মো. গোলাম মাসুদ মৃধার অর্জিত ডিগ্রিগুলো ভুয়া বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তাঁর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি।’
তিনি বলেন, ‘অভিযানের খবর পেয়ে কথিত ওই চিকিৎসক আগেই পালিয়ে যান। তিনি প্রতি রোববার পিরোজপুরে রোগী দেখেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। খুলনায়ও তার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আমরা প্রতিষ্ঠানটির মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে আর এখানে রোগী দেখতে দেওয়া হবে না বলে তারা জানিয়েছে। এরপরও তিনি রোগী দেখাতে এলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. গোলাম মাসুদ মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৭:৪৬ ● ২৪ বার পঠিত
