সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬
নাজিরপুরে শহীদ জিয়া কলেজে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ
হোম » লিড নিউজ » নাজিরপুরে শহীদ জিয়া কলেজে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নাজিরপুর (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নাজিরপুর শহীদ জিয়া কলেজে জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া সিল ব্যবহার করে তিনজনকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, রতন মন্ডল, পলাশ সাহা ও অনুপ হালদার নামের ওই তিন ব্যক্তি প্রায় ১০ বছর ধরে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যাপক আবদুল জলিল আকনের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। তবে অধ্যাপক জলিল আকন দাবি করেছেন, নথিতে থাকা স্বাক্ষর ও সিল তাঁর নয়। তাঁর ভাষ্য, পুরো নিয়োগ বোর্ডই ভুয়া এবং তাঁর স্বাক্ষর ও সিল নকল করা হয়েছে। একইভাবে বিষয় বিশেষজ্ঞ ডক্টর সফিকুল ইসলামের সিল ও স্বাক্ষরও জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের তৎকালীন সভাপতি ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম আউয়ালের বিরুদ্ধে ঘুষের বিনিময়ে ওই তিনজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সময়ে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কলেজের নাম পরিবর্তন করে ‘নাজিরপুর কলেজ’ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর থেকে একেএম আউয়াল আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে ঘটনার সময় নারায়ণ চন্দ্র হালদারকে কলেজের সদস্য সচিব ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন, নারায়ণ চন্দ্র কখনো কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কল কেটে দেন। পরে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
কলেজের বর্তমান সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছে নিয়োগের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে তাঁরা তা দেখাতে পারেননি বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত অনুপ হালদার প্রথমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার কথা জানালেও পরে তা অস্বীকার করেন।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলার সময় কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি সদরুল আলম মল্লিক শাহিন মীমাংসার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সাংবাদিকের পকেটে টাকা গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া অনুপ হালদারের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের কুপ্রস্তাব দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে আগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে পরে প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
কলেজ সূত্র জানায়, নিয়োগ নিয়ে আগে গঠিত তদন্ত কমিটি আংশিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য বলেন, নিয়োগে গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও আসতে পারে।
তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য প্রভাষক মশিউর রহমান বলেন, বিতর্কিত ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মশিউর কবির বলেন, সরকারি নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে জাল স্বাক্ষর বা সিল ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে। অবৈধভাবে সরকারি অর্থ গ্রহণের অভিযোগও প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়ার আইনি বিষয়টি আসতে পারে।
পিরোজপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইদ্রিস আলী আযিযী বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাজিরপুর শহীদ জিয়া কলেজের এই নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪৭:২৫ ● ২৫ বার পঠিত
