রবিবার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনায় নারীকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে ধর্ষণ: যুবকের যাবজ্জীবন

হোম » আইন-আদালত » বরগুনায় নারীকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে ধর্ষণ: যুবকের যাবজ্জীবন
রবিবার ● ৪ অক্টোবর ২০২৬


 

বরগুনায় নারীকে চাকরির প্রলোভনে নিয়ে ধর্ষণ: যুবকের যাবজ্জীবন

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনার পাথরঘাটায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে এক নারীকে চট্টগ্রামে নিয়ে দীর্ঘদিন আটকে রেখে ধর্ষণের মামলায় মো. মাহবুব কারিকর (৪০) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ডের ১০ টাকা ভুক্তভোগী নারী পাবেন।

 

রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. ওসমান গনি এ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত মাহবুব কারিকর পাথরঘাটা উপজেলার মধ্যে বাইনচুটকি গ্রামের আ. কাদের কারিকরের ছেলে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু।

 

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৩ জুন চট্টগ্রামের একটি বিদেশি কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মোয়াজ্জেম খানকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন মাহবুব। পরদিন সকাল ৯টার দিকে তারা চট্টগ্রামের অলংকার স্টেশনে পৌঁছান।

 

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অলংকার স্টেশনে তোফাজ্জল নামে একজন একটি হোটেলে পানি খেতে গেলে ওই সুযোগে মাহবুব ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। পরে বিভিন্ন স্থানে স্ত্রী ও মাহবুবকে খুঁজে না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান তোফাজ্জল।

 

মামলার বাদীর অভিযোগ, ওই নারীকে চট্টগ্রামে নিয়ে একটি বাসায় দীর্ঘদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন মাহবুব। একপর্যায়ে ওই নারী সেখান থেকে পালিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে আসেন।

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ২০১৪ সালের ২৩ জুন বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত শেষে মাহবুবের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন।

 

রায় ঘোষণার পর আদালতের বারান্দায় মাহবুব কারিকর নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তাকে ষড়যন্ত্র করে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর রনজুয়ারা সিপু বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আদালতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১৭:৩০ ● ৪৬ বার পঠিত