শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬

বরগুনায় ইলিশের তীব্র সংকট, সামনে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

হোম » বরগুনা » বরগুনায় ইলিশের তীব্র সংকট, সামনে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
শনিবার ● ৩ অক্টোবর ২০২৬


 

বরগুনায় ইলিশের তীব্র সংকট, সামনে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনার উপকূলীয় নদ-নদী ও সাগরে ইলিশের ভরা মৌসুম শেষের পথে। আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এর আগে জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে না। যে পরিমাণ মাছ উঠছে, তার বড় অংশই তুলনামূলক ছোট। এতে মাছ না পেয়ে ঋণ ও খরচের চাপে পড়েছেন জেলেরা। অন্যদিকে বাজারে চড়া দামে ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

 

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

নিষেধাজ্ঞার কয়েক দিন আগে ইলিশের কাঙ্ক্ষিত দেখা না মেলায় বরগুনার উপকূলের জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলীসহ উপকূলীয় এলাকার জেলেরা বলছেন, সাগর ও নদীতে দিনের পর দিন জাল ফেলেও অনেক সময় প্রত্যাশিত মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নিষেধাজ্ঞার আগে মৌসুমি আয় দিয়ে ধারদেনা ও নৌযানের খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

পাথরঘাটার কালমেঘা এলাকার জেলে নবী হোসেন জানান, সাগরে জাল ফেলেও এবার কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ কম পাওয়ায় ট্রলারের জ্বালানি, বরফ, খাবার ও অন্যান্য খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সামনে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় সংসারের খরচ ও ধারদেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।

 

বরগুনার গুলিশাখালীর জেলে আইউব আলী মাঝি জানান, ইলিশের আশায় সাগরে গেলেও আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ কম পাওয়ায় সাগরে যাওয়ার খরচই অনেক সময় উঠছে না। সামনে নিষেধাজ্ঞার সময় আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রকৃত জেলেদের জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

 

জেলেদের ভাষ্য, একটি মাছ ধরার ট্রলার সাগরে পাঠাতে জ্বালানি, বরফ, খাবার, শ্রমিকের মজুরি, জাল ও নৌযান মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় অনেক সময় মাছ বিক্রির টাকায় এসব খরচও ওঠে না। এতে ঋণের বোঝা বাড়ছে।

 

পাথরঘাটা দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য অবতরণকেন্দ্র। সাগর থেকে ফিরে আসা ট্রলারগুলোতে প্রতিদিন ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে আসেন জেলেরা। তবে এবার মাছের প্রাপ্যতা ও বাজারদরের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান দেখা যাচ্ছে।

 

পাথরঘাটার ব্যবসায়ী মো. মহিউদ্দিন জানান, জেলের কাছ থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন হাতবদল হয়ে একই মাছ ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দাম দাঁড়াচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত।

 

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখার পাশাপাশি পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত ও কেনাবেচাও বন্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।

 

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৬০০। নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি প্রণোদনার আওতায় ২৭ হাজার জেলেকে সহায়তা দেওয়া হয়।

 

এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টন। এর আগের অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার টন। এক বছরের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ।

 

নিষেধাজ্ঞার আগে ইলিশের সংকট ও বাজারে দাম বাড়ায় জেলেদের পাশাপাশি সাধারণ ক্রেতারাও সমস্যায় পড়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের আয় বন্ধ থাকায় প্রকৃত জেলে পরিবারগুলো যাতে সরকারি খাদ্য সহায়তা পায়, সে বিষয়ে জোরাল দাবি তুলছেন জেলেরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪১:৩২ ● ৪১ বার পঠিত