সোমবার ● ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে মির্জাগঞ্জে হাসপাতালে ঠাঁই নেই, মেঝে-বারান্দায় চলছে চিকিৎসা
হোম » লিড নিউজ » ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ছে মির্জাগঞ্জে হাসপাতালে ঠাঁই নেই, মেঝে-বারান্দায় চলছে চিকিৎসা
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও শয্যা মিলছে না। বাধ্য হয়ে কেউ বারান্দায়, কেউ মেঝেতে বিছানা পেতে নিচ্ছেন চিকিৎসা। তীব্র গরম, মশা ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ৮৫ জন রোগী। এর মধ্যে ডেঙ্গু রোগী রয়েছেন ১৩ জন। প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালটিতে বাড়ছে শয্যার সংকট।
হাসপাতালের বারান্দায় থাকা ডেঙ্গু রোগীদের মশারি টানিয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হলেও মেঝে ও বারান্দায় জায়গার সংকটের কারণে অনেকে তা পারছেন না। ফলে রাতে কয়েল জ্বালিয়ে থাকতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের। কোনো কোনো রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে স্যালাইন নিতে দেখা গেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ছয়জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোগী বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এসে কোনো শয্যা পাননি। রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে মশা, গরম ও বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার দুর্ভোগ।
ডেঙ্গু রোগীদের জন্য গত রবিবার হাসপাতালটিতে ১০ শয্যার পৃথক আইসোলেশন ইউনিট উদ্বোধন করা হয়। পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী এ ইউনিটের উদ্বোধন করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. উমর ফারুক জাবিরসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. উমর ফারুক জাবির বলেন, ‘প্রতিদিন এখানে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু ও হামের রোগীদের জন্য ১০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট করা হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীদের বারান্দায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। আমিসহ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক রোগীদের দেখভাল করছি।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। শয্যা সংকটের কারণে অতিরিক্ত রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কখনো কখনো ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা শত ছাড়িয়ে যায়। এতে অন্য রোগীদের ভর্তি রাখা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামলাতে নার্স ও চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা কোনো রোগীকে ফেরত দিচ্ছি না। মেঝে ও সিঁড়ির পাশেও রোগীদের রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।’
বাংলাদেশ সময়: ২২:২৫:১০ ● ২৮ বার পঠিত
