মঙ্গলবার ● ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গলাচিপায় বিরোধীয় জমির সালিশেও মেলেনি সমাধান
হোম » পটুয়াখালী » গলাচিপায় বিরোধীয় জমির সালিশেও মেলেনি সমাধান
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপায় ২৬৫ শতাংশ বিরোধীয় জমি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে একাধিকবার সালিশ হলেও মেলেনি স্থায়ী সমাধান। এতে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি চাষাবাদ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টি মৌজার ১৮৭ নম্বর এসএ খতিয়ানের নয়টি দাগে ওই ২৬৫ শতাংশ জমির মালিকানা দাবি করছেন নুর আলম ফরাজীসহ অন্যরা। তাঁদের অভিযোগ, বাচ্চু হাওলাদার ও তাঁর লোকজন জমি দখলে রেখেছেন।
তবে দুই পক্ষই জমির কাগজপত্র নিজেদের পক্ষে রয়েছে দাবি করছে। বিরোধের সমাধানে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও প্রতিপক্ষের অনুপস্থিতির কারণে মীমাংসা হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
রেকর্ডীয় ও ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা দাবি করা নুর আলম ফরাজী বলেন, ‘দুই একর ৬৫ শতাংশ জমি আমার বাপ-দাদার রেকর্ডীয় সম্পত্তি। বাচ্চু হাওলাদার গং জোরপূর্বক জমি ভোগদখল করছে। আমি সালিশের মাধ্যমে জমি ফিরে পেতে চাই।’
ভুক্তভোগী সিদ্দিক হাওলাদার বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। মাদ্রাসার জন্য ভিক্ষা করে সংসার চালাই। মানুষের সঙ্গে দিনমজুরের কাজও করি। আমার ছয়টি কন্যাসন্তান রয়েছে। বাপ-দাদার জমি থাকতেও আজ আমি নিঃস্ব।’
মজিবর হাওলাদার বলেন, ‘একাধিকবার সালিশ হলেও প্রতিপক্ষরা আসে না। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের ঘুরানো হচ্ছে।’
স্থানীয় সার্ভেয়ার জাফর গাজী বলেন, ‘দুই পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে জমিটি মাপা হয়েছে। এখন সালিশকারীরা বসে বুঝিয়ে দিলেই সমাধান হয়ে যায়।’
অপর পক্ষের সার্ভেয়ার ইদ্রিস মিয়া বলেন, ‘দুই পক্ষকে নিয়ে হিস্যা করা হয়েছে। সালিশকারীরা বসে মীমাংসা করলেই সমাধান হয়ে যাবে।’
উপজেলা বিএনপি নেতা সোবাহান মিয়া বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের বিষয়টি নিয়ে কয়েকবার বসা হয়েছে। বর্তমানে পানপট্টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন টিপুকে জমিটি চাষাবাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সালিশের পক্ষের নেছার উদ্দিন রাঢী বলেন, দুই পক্ষের সম্মতিতে নাসির উদ্দিন টিপুকে জমি চাষাবাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নাসির উদ্দিন টিপু বলেন, ‘দুই পক্ষ সালিশের মাধ্যমে আমাকে জমি চাষাবাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আমার মাধ্যমে জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। কাগজপত্র যাদের সঠিক পাওয়া যাবে, তাদের জমি ও ধান বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’
বাচ্চু হাওলাদারের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ভুক্তভোগীরা দ্রুত দুই পক্ষের কাগজপত্র যাচাই করে বিরোধের নিষ্পত্তি এবং চাষাবাদ নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:০৭:৫৬ ● ২৫ বার পঠিত
