সোমবার ● ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গলাচিপায় নদীভাঙনে হুমকির মুখে পশ্চিম চরকাজল প্রাথমিক বিদ্যালয়

হোম » পটুয়াখালী » গলাচিপায় নদীভাঙনে হুমকির মুখে পশ্চিম চরকাজল প্রাথমিক বিদ্যালয়
সোমবার ● ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

গলাচিপায় নদীভাঙনে হুমকির মুখে পশ্চিম চরকাজল প্রাথমিক বিদ্যালয়

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ১৮৩ নম্বর পশ্চিম চরকাজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। বিদ্যালয় ভবন থেকে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ ফুট দূরে চলে এসেছে বুড়াগৌরাঙ্গ নদী। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ভাঙনে পশ্চিম চরকাজল মৌজা পুরোপুরি এবং বড় চরকাজল মৌজার একাংশ ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনে একটি মাদ্রাসা, চারটি মসজিদ ও একটি কমিউনিটি বিদ্যালয়ের ভবনসহ শতাধিক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, পশ্চিম চরকাজল বেড়িবাঁধ-সংলগ্ন এলাকায় আহম্মেদ আবু জাফরের দান করা ৪০ শতাংশ জমিতে তাঁর উদ্যোগে ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম দান করা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে তিনি আবারও জমি দান করেন। রেজিস্ট্রেশনভুক্ত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে দুই শিফটে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। প্রাক-প্রাথমিকসহ ছয়টি শ্রেণিতে ১০৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙনস্থল স্কুল থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ ফুট দূরে রয়েছে। স্কুল-সংলগ্ন বেড়িবাঁধের ভাঙনও অব্যাহত রয়েছে। এটি এলাকার মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। বাঁধটি ভেঙে গেলে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ একর চাষাবাদযোগ্য জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

 

তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে গাছ দিয়ে বেড়িবাঁধ তৈরি করে রাস্তাটি রক্ষার চেষ্টা করছি। কিন্তু এখনো সরকারি কোনো সহায়তা পাইনি।’

 

অভিভাবক আল-আমিন গাজী বলেন, ‘আমার সন্তান প্রতিদিন এই স্কুলে যায়। নদী স্কুলের এত কাছে চলে আসায় আমরা ভয়ে থাকি। এই স্কুল হারালে আমার সন্তানের মতো শত শিশু কোথায় পড়বে? আমরা গরিব মানুষ, দূরে গিয়ে পড়ানোর সামর্থ্য নেই। সরকার এখনই ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা না করলে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।’

 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশিদা বেগম বলেন, ‘আগে নদী অনেক দূরে ছিল। নদীভাঙনের ফলে দিনে দিনে এটি বিদ্যালয়ের খুব কাছে চলে এসেছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ছোট শিশুদের পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।’

 

চরকাজল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে আমরা প্রতিমন্ত্রী নুরুল হকের কাছে আবেদন করেছি। ভাঙন ঠেকাতে ব্লক স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডেও আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

 

গলাচিপা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বলেন, ‘নদীভাঙন রোধে আমরা জিওব্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। এরপরও বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করছি।’

 

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। তিনি আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। এরপর পরিস্থিতি দেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গেও কথা বলেছি। নদীভাঙন রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৪:৫৭ ● ১১ বার পঠিত