সোমবার ● ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেছারাবাদে মুরগি চুরির অপবাদে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে মুরগি চুরির অপবাদে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ
সোমবার ● ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

নেছারাবাদে মুরগি চুরির অপবাদে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগে টুটুল, ইমরান ও আলমগীর নামে তিনজনকে মারধরের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মারধরের শিকার ১৪ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী উপজেলার চিলতলা গ্রামের মৃধা বাড়ির বাসিন্দা এবং স্থানীয় চিলতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

 

পরিবার ও শিক্ষার্থীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে ওই শিক্ষার্থী তার বাবার পকেট থেকে না বলে টাকা নিয়ে একটি মোবাইল ফোন কেনে। বিষয়টি জানতে পারলে বাবার ভয়ে সে রাতে বাড়িতে না গিয়ে বাড়ির সামনের একটি মসজিদে ঘুমিয়ে পড়ে।

 

রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ফার্ম ব্যবসায়ী টুটুল তাকে মসজিদ থেকে ডেকে তোলেন। পরে ফার্মের মুরগি চুরি করার অভিযোগে তুলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

 

শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এ সময় টুটুল লোহার রড দিয়ে তাকে মারধর করেন। তার সঙ্গে ইমরান ও আলমগীরও ছিলেন বলে সে দাবি করেছে। এদিকে, শিুশুটির মায়ের মারধরের ভয়ে সে ফার্মে ঢোকার কথা স্বীকার করলেও কোনো মুরগি চুরি করেনি বলে জানায়। পরে তাকে স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন মৃধার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মারধরের পর ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

শিক্ষার্থীর মা বলেন, ছেলে তার বাবার পকেট থেকে টাকা নিয়ে মোবাইল ফোন কেনায় বাবার ভয়ে রাতে বাড়িতে আসেনি। পরে মারধরের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ছেলেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

 

থানায় অভিযোগকারী বলেন, ‘আমার নাতি অষ্টম শ্রেণির একজন ছাত্র। তাকে মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে অমানুষিকভাবে মারধর ও নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

 

অভিযোগের বিষয়ে টুটুল বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে তাদের ফার্ম থেকে মুরগি ও গাছের সুপারি চুরি হচ্ছিল। চোরকে ধরতে না পারায় তারা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। ঘটনার রাতে আনুমানিক দেড়টার দিকে বাড়ির সামনের মসজিদে ছেলেটিকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় সে ফার্মে ঢোকার কথা স্বীকার করে বলে দাবি করেন টুটুল।

 

মারধরের অভিযোগ সম্পর্কে টুটুল বলেন, ‘পরে আমি দুই-চারটা পিটান দিয়েছি।’ এরপর স্থানীয় ইউপি সদস্যকে ডেকে শিক্ষার্থীকে তার হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

 

ইউপি সদস্য লিটন মৃধা বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেটিকে দেখতে পাই। তবে আমি তাকে মারধর করতে দেখিনি।’

 

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, ঘটনার বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৭:৩১ ● ২০৯ বার পঠিত