মঙ্গলবার ● ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মাত্র ১০ মাসে কোরআনের হাফেজা ১৪ বছরের তানজিলা
হোম » পটুয়াখালী » মাত্র ১০ মাসে কোরআনের হাফেজা ১৪ বছরের তানজিলা
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক,মহিপুর (পটুয়াখালী)
মাত্র ১০ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ১৪ বছর বয়সী তানজিলা আক্তার। অল্প সময়ে তার এই অসাধারণ অর্জনে পটুয়াখালীর মহিপুর থানা সদরের বিপিনপুর এলাকার জিলাপিতলায় অবস্থিত জামিয়া হযরত ওমর (রা.) মাদরাসায় আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তানজিলার সাফল্য উদযাপন উপলক্ষে মাদরাসা প্রাঙ্গণে তাকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তানজিলা পটুয়াখালীর মহিপুর সদর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা হাফেজ মো. সালাউদ্দিন হাওলাদার পেশায় অটোচালক। প্রায় ১০ মাস আগে সে জামিয়া হযরত ওমর ফারুক (রা.) মাদরাসার বালিকা শাখার হিফজখানায় ভর্তি হয়। এরপর নিয়মিত অধ্যবসায়, একাগ্রতা এবং শিক্ষিকাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে মাত্র ১০ মাসেই পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করে তানজিলা।
সম্মাননা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে হাফেজা তানজিলা আক্তার বলেন, ‘আমি জামিয়া হযরত ওমর ফারুক (রা.) মাদরাসা থেকে হিফজ সম্পন্ন করেছি। এখানকার শিক্ষিকারা অত্যন্ত যত্নসহকারে পাঠদান করেন। কোনো বিষয় কঠিন মনে হলে তারা সহজভাবে বুঝিয়ে দিতেন। অল্প সময়ে কোরআন হিফজ করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত। ভবিষ্যতেও নিয়মিত কোরআন পড়তে চাই এবং এর শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করতে চাই।’
একমাত্র মেয়ের এমন অর্জনে আনন্দিত বাবা হাফেজ মো. সালাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই মেয়ের কোরআনের প্রতি আগ্রহ ছিল। হিফজের সময় সে অনেক পরিশ্রম করেছে। ক্লান্ত হলেও কখনো পড়া থেকে বিরত থাকেনি। তার এই সাফল্য আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। আমরা আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি এবং মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও পরিচালনা কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
মাদরাসার বালিকা হিফজ শাখার শিক্ষিকা হাফেজা মোসা. মারজিয়া আক্তার বলেন, ‘তানজিলা অত্যন্ত মেধাবী ও মনোযোগী শিক্ষার্থী। নতুন সবক মুখস্থ করার পাশাপাশি পুরোনো পড়া নিয়মিত ধরে রাখার ক্ষেত্রেও তার আন্তরিকতা ছিল। অনেক সময় অন্যরা বিশ্রাম নিলেও তাকে কোরআন মাজিদ নিয়ে পড়াশোনায় ব্যস্ত দেখা যেত। নিয়মিত অনুশীলন এবং নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করার কারণেই সে অল্প সময়ে হিফজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। মাত্র ১০ মাসে হিফজ শেষ করা মহান আল্লাহর রহমত এবং তার কঠোর পরিশ্রমের ফল।’
স্থানীয় আলেম ও ব্যবসায়ী হাফেজ মো. মতিন বলেন, ‘কোরআন হিফজ করা অত্যন্ত মর্যাদার বিষয়। তবে শুধু মুখস্থ করাই যথেষ্ট নয়, কোরআনের অর্থ ও শিক্ষা অনুধাবন করে সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই প্রকৃত সাফল্য। তানজিলার জন্য আমাদের দোয়া ও শুভকামনা থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এমন একটি মাদরাসা রয়েছে, যেখান থেকে মাত্র ১০ মাসে একজন ছাত্রী হাফেজা হয়েছে। এর আগে একই মাদরাসার বালক শাখা থেকে মাত্র আট মাসে একজন শিক্ষার্থী কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করেছে। এটি পুরো মহিপুরবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।’
জামিয়া হযরত ওমর (রা.) মাদরাসার মুহতামিম মুফতি আবুল কালাম আজাদী বলেন, ‘একজন ছাত্রীর জন্য কোরআনুল কারিমের ৩০ পারা মুখস্থ করা নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। মাত্র ১০ মাসে হিফজ সম্পন্ন করে তানজিলা প্রমাণ করেছে, সদিচ্ছা, কঠোর পরিশ্রম ও সঠিক পরিবেশ থাকলে অনেক কঠিন কাজও সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। তানজিলার এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করি।’
দোয়া ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাদরাসার উপদেষ্টা হাফেজ আব্দুল বারেক, প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল খালেক কবিরাজ, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. মোস্তফা সরদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি কিরণ হাওলাদার, সহ-সভাপতি মোশাররফ মুসুল্লি এবং নাজিমে তালিমাত হাফেজ মো. হারুন হাওলাদারসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান শেষে হাফেজা তানজিলার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনার পাশাপাশি মাদরাসার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত মে মাসের শেষদিকে একই মাদরাসার বালক শাখার হিফজখানার শিক্ষার্থী মেজবাহ উদ্দিন মুয়াজ মাত্র আট মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হিফজ সম্পন্ন করে আলোচনায় আসে। এবার বালিকা শাখার তানজিলা আক্তারের মাত্র ১০ মাসে হিফজ সম্পন্নের ঘটনায় মাদরাসাসহ পুরো এলাকায় নতুন করে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:০৯:০৮ ● ২৪ বার পঠিত
