সোমবার ● ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাউফল দোকানঘর নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
হোম » পটুয়াখালী » বাউফল দোকানঘর নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে দোকানঘর ভাড়া ও খালি করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর সাগর দাসের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন দোকান মালিক মোহাম্মদ নাইম হোসেন। তবে সাগর দাস অভিযোগের বিষয়ে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কালাইয়া বন্দরে নিজ দোকানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নাইম হোসেন দাবি করেন, জে.এল. নং-১২৪-এর ৬১৮ নম্বর দাগভুক্ত এক শতাংশ জমিতে নির্মিত তার দোকানঘর সাগর দাসের বাবা রাধেশ্যাম দাসকে ব্যবসার জন্য চার বছরের চুক্তিতে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মালিকের প্রয়োজনে তিন মাস আগে অবহিত করলে ভাড়াটিয়াকে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ থেকে রাধেশ্যাম দাসকে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তিনি ও তার দুই ছেলে সাগর দাস এবং হৃদয় দাস এতে সম্মত হননি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় বাউফল থানায়ও অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নাইম হোসেনের ভাষ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর থানায় নির্ধারিত সালিশ বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকলেও ভাড়াটিয়া পক্ষ উপস্থিত হয়নি। পরে থানার পরামর্শে ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা থেকে ৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টার মধ্যে দোকানঘর খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশটি ভাড়াটিয়া গ্রহণ করে স্বাক্ষরও করেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে দোকানঘর খুলে ভাড়াটিয়ার মালামাল গণনা করে তালিকা করা হয়। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে মালামাল ভাড়াটিয়ার বাড়িতে পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি। বর্তমানে মালামাল প্যানেল চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের জিম্মায় রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ কারণে মালামাল লুটের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য করেন নাইম।
সংবাদ সম্মেলনে নাইম হোসেন দাবি করেন, ঘটনার সময় বাউফল থানার উপপরিদর্শক মো. মফিজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। একই সঙ্গে থানার ওসিকে তার ‘ক্লাসমেট’ হিসেবে উপস্থাপনের অভিযোগও সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
সাগর দাসের সংবাদ সম্মেলনে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়ে নাইম হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশ করা উচিত।
এ বিষয়ে কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ বলেন, ‘এখানে দোকানের মালামাল লুটপাটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। যা হয়েছে, তা প্রকাশ্যেই হয়েছে। আমি, স্থানীয় গ্রাম পুলিশ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে মালামালের তালিকা করা হয়েছে। তালিকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাক্ষর রয়েছে।’
বাউফল থানার উপপরিদর্শক মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সাগর দাস ও তার বাবা আমাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসহযোগিতা করেছেন।’
তিনি বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দোকান থেকে মালামাল সরানো হয়েছে। তবে ওই সময় তিনি বা পুলিশের অন্য কোনো সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে সাগর দাস বলেন, ‘আমি এ ঘটনার বিষয়ে আইনের দ্বারস্থ হব।’
বাংলাদেশ সময়: ১৪:২১:০১ ● ২৫ বার পঠিত
