শনিবার ● ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আগৈলঝাড়া থানায় হামলা মামলা থেকে দুই সাংবাদিকের চার সপ্তাহের আগাম জামিন
হোম » গণমাধ্যম » আগৈলঝাড়া থানায় হামলা মামলা থেকে দুই সাংবাদিকের চার সপ্তাহের আগাম জামিন
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই সাংবাদিক চার সপ্তাহের আগাম জামিন পেয়েছেন। তারা হলেন দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলা টিভি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি এফএম নাজমুল রিপন।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. সালিম ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে চার সপ্তাহের মধ্যে বরিশালের সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহিল মারুফ ফাহিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, গত ৮ জুলাই আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনশ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলা টিভি ও মানবকণ্ঠ প্রতিনিধি এফএম নাজমুল রিপনকে ২১ নম্বর ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলামকে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
স্থানীয় একাধিক সাংবাদিকের দাবি, ওই দুই সাংবাদিক ঘটনার পর কেবল সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। পুলিশের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে হয়রানির উদ্দেশ্যে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ১১ জুলাই আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
যুগান্তর প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি মাদকসহ চারজনকে আটকের পর তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া এবং একজনকে আদালতে পাঠানোর ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ নিয়ে যুগান্তরসহ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর থানা পুলিশের একটি পক্ষ আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। পরে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, এর আগে তার বিরুদ্ধে এক বিএনপি নেতাকে দিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করানো হয়েছিল।
এফএম নাজমুল রিপন বলেন, ‘মাদকসংক্রান্ত কয়েকটি সংবাদ প্রকাশের জেরে আমার বিরুদ্ধে পাঁচজনকে দিয়ে থানায় পাঁচটি সাধারণ ডায়েরি করানো হয়েছে। থানায় হামলার ঘটনায় আমরা প্রশাসনের পাশে থেকে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছি। তারপরও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’
তবে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ খান বলেন, ‘তদন্ত শেষে মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের পাশাপাশি ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে আরও ১৭ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৬০ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ আগস্ট বরিশালের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। পুলিশ হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরদিন রিয়াজ ফকির পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন-এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এ সময় থানায় হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৪০:২৫ ● ২৫ বার পঠিত
