শনিবার ● ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাঙ্গাবালীতে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » রাঙ্গাবালীতে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
শনিবার ● ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

রাঙ্গাবালীতে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে পুলিশের হেফাজত থেকে গ্রেপ্তার এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির স্থানীয় এক নেতা ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করলেও একজনকে নিয়ে যাওয়ার পথে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগের বিষয়ে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস খানকে দায়ী করা হয়েছে। জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালতে দায়ের করা একটি মামলায় তাঁর ছেলে কাউসার খান ও নাতি মোকসেদুল আসামি। মামলার বাদী আবদুল কাইয়ুম সিকদার জানান, গত ৩০ আগস্ট ইদ্রিস খানের নেতৃত্বে তাঁদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ৩১ আগস্ট তিনি রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় ইদ্রিস খানসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয় এবং পরে আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল চরআন্ডা গ্রামে অভিযান চালিয়ে কাউসার খান ও মোকসেদুলকে গ্রেপ্তার করে। তবে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয়দের বাধার মুখে মোকসেদুল পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ কাউসার খানকে থানায় নিয়ে যায়।

 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাঙ্গাবালী থানার উপপরিদর্শক রেজাউল শেখ বলেন, দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় কিছু নারী-পুরুষ আসামিদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেন। এ সময় এক আসামি পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে যান। গ্রেপ্তার কাউসার খানকে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

তবে গ্রেপ্তার কাউসার খানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ভিন্ন দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য, শুক্রবার তাঁর স্বামী ও মোকসেদুল মসজিদে নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় পুলিশ নামাজের মধ্যে তাঁদের আটক করে এবং কাউসার খানের হাতে হাতকড়া পরায়। গ্রেপ্তারের কাগজ দেখতে চাইলেও পুলিশ তা দেখাতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেন। এ কারণেই স্থানীয়রা বাধা দিয়ে মোকসেদুলকে ছাড়িয়ে নেন। তবে পুলিশের ওপর কোনো হামলা করা হয়নি বলে দাবি তাঁর।

 

অন্যদিকে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা ইদ্রিস খান। তিনি বলেন, অসুস্থতার কারণে তিনি বর্তমানে এলাকায় নেই এবং কাউকে আসামি ছাড়িয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেননি। তাঁর দাবি, মসজিদে নামাজ পড়ার সময় পুলিশ তাঁর ছেলে কাউসার ও নাতি মোকসেদুলকে আটক করে। পরে তাঁর নাতি পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে বলে তিনি শুনেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৩:০১ ● ২৯ বার পঠিত