শুক্রবার ● ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই দিনের ব্যবধানে আহত দুই শ্রমিক, একজনের মৃত্যু
হোম » খুলনা » বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই দিনের ব্যবধানে আহত দুই শ্রমিক, একজনের মৃত্যু
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)
বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই দিনের ব্যবধানে পৃথক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ভারী কাগজের বেল পড়ে গুরুতর আহত রবিউল হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অপর শ্রমিক আক্তারুল ইসলাম ফর্কলিফটের ভারী যন্ত্রাংশের আঘাতে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (৩১ আগস্ট) আমদানি পণ্য খালাসের সময় ভারী কাগজের বেল পড়ে রবিউল হোসেন গুরুতর আহত হন। সহকর্মীরা তাকে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাভারণে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হলে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
নিহত রবিউল হোসেন বেনাপোল পোর্ট থানার বৃত্তিআঁচড়া গ্রামের দোলা ইসলামের ছেলে।
এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৯ নম্বর সেডের ভেতরে ফর্কলিফট দিয়ে একটি ফিল্ম ট্রাকে পণ্য লোড করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শ্রমিক আক্তারুল ইসলাম (৫০)। এ সময় ফর্কলিফট থেকে একটি ভারী যন্ত্রাংশ স্লিপ করে তার বুকের ওপর পড়ে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
সহকর্মীরা আক্তারুলকে উদ্ধার করে প্রথমে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নাভারণে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন।
বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি তবিবুর রহমান তবি ও সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর রাখছেন।
শ্রমিক নেতারা বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করেন। কিন্তু বন্দরের ভেতরে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনায় আহত শ্রমিকদের নাভারণ কিংবা যশোরে নিতে হয়। এতে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শ্রমিক নেতা শহীদ আলী বলেন, নিম্নমানের ক্রেন ও ফর্কলিফট ব্যবহারের পাশাপাশি বন্দরে জরুরি চিকিৎসাসুবিধা না থাকায় শ্রমিকদের দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে। বন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন শ্রমিক আহত ও নিহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, শ্রমিকদের সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং উন্নতমানের ক্রেন ও ফর্কলিফট সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
শ্রমিকদের দাবি, বন্দরের ভেতরে জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি বন্দর এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনায় নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রবিউল হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বেনাপোল বন্দর এলাকা ও তার গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২০:৩১ ● ২৬ বার পঠিত
