শুক্রবার ● ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গরমের সঙ্গে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ক্ষোভের মুখে বিদ্যুৎকর্মীরা
হোম » বরিশাল » গরমের সঙ্গে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ক্ষোভের মুখে বিদ্যুৎকর্মীরা
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল
তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বরিশাল নগরীর জনজীবন। দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়েও বিভিন্ন এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। এ পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ মানুষের তোপের মুখে পড়ছেন বিদ্যুৎ বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা। মিটার রিডিং নেওয়া কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ মেরামতের কাজে এলাকায় গেলেই গ্রাহকদের নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের আতঙ্ক নিয়েই মাঠে কাজ করছেন কর্মীরা।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে নগরীর হাসপাতাল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালসহ বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎকর্মীরা এলাকায় এলে মানুষ তাদের কাছেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
সদর রোড এলাকার ব্যবসায়ী মো. জাহিদ হোসেন বলেন, ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ সময়েও লোডশেডিং হচ্ছে। এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসায় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিও ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মী বলেন, লোডশেডিং হলেই গ্রাহকদের ক্ষোভ মাঠপর্যায়ের কর্মীদের ওপর গিয়ে পড়ে। মিটার রিডিং নিতে কিংবা সংযোগ মেরামতের কাজে গেলে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। কেউ কেউ উত্তেজিত আচরণও করেন। অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ের কর্মীদের হাতে নেই।
এদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নগরীর দুই সরকারি হাসপাতালেও দুর্ভোগ বেড়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র এক হাজার শয্যার শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে বলে জানা গেছে। নতুন ভবনে বিদ্যুৎ চলে গেলে লিফট, ফ্যান ও বাতি বন্ধ হয়ে যায়। জেনারেটর থাকলেও পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে তা সার্বক্ষণিক চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে অপারেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে ১০০ শয্যার বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে। হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রোগীদের ভরসা হাতপাখা। রাতের অন্ধকার দূর করতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মোমবাতিও ব্যবহার করতে হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আলামিন বলেন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় আরও কষ্ট পেতে হচ্ছে। বিশেষ করে টিনশেড ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা কঠিন হয়ে যায়।
বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, বিকল জেনারেটরটি সচলের চেষ্টা করা হলেও এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। তবে লোডশেডিংয়ের সময় আইপিএসের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার কক্ষ সচল রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।
শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, নতুন ভবনের জন্য আরও একটি বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জেনারেটর চালানোর জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ওজোপাডিকোর পলাশপুর গ্রিড সাবস্টেশনের বোর্ড অ্যাটেনডেন্ট আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, মানবিক দিক বিবেচনায় বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে তুলনামূলক কম লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
ওজোপাডিকো বরিশালের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে অভিযোগ এলে গ্রাহকদের বিষয়টি বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:৫২:৪৯ ● ২৯ বার পঠিত
