বৃহস্পতিবার ● ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোয়াটসঅ্যাপে প্রেম, গাজীপুর থেকে পাথরঘাটায় কিশোরী; বাবাকে পেয়ে বদলে যায় সিদ্ধান্ত
হোম » বরগুনা » হোয়াটসঅ্যাপে প্রেম, গাজীপুর থেকে পাথরঘাটায় কিশোরী; বাবাকে পেয়ে বদলে যায় সিদ্ধান্ত
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর প্রেমের সম্পর্ক। পরিবারের পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য পাত্র দেখা শুরু হওয়ায় কাউকে কিছু না জানিয়ে গাজীপুর থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বরগুনার পাথরঘাটায় আসে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী। ভিন্ন ধর্মের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে বিয়ের উদ্দেশ্যে আসার কথা পুলিশকে জানিয়ে ধর্ম পরিবর্তনের ইচ্ছার কথাও বলেছিল সে। তবে বাবার মুখোমুখি হওয়ার পর বদলে যায় তার সিদ্ধান্ত। পরে পুলিশের মাধ্যমে দুই অপ্রাপ্তবয়স্ককে নিজ নিজ পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই কিশোর-কিশোরীর পরিচয় হয়। পরিচয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছিল। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
সম্প্রতি কিশোরীর পরিবার তার বিয়ের জন্য পাত্র দেখা শুরু করলে সে বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি বলে পুলিশকে জানায়। পরে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে রওনা হয় সে।
পরদিন সকালে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পৌঁছালে ওই কিশোর মোটরসাইকেলে করে তাকে পাথরঘাটার বড়ইতলা এলাকায় নিয়ে আসে। সেখানে একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে কিশোরীকে দেখে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে থানায় নিয়ে আসে।
থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী পুলিশকে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই কিশোরের সঙ্গে তার পরিচয় এবং দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাকে বিয়ের উদ্দেশ্যেই সে গাজীপুর থেকে পাথরঘাটায় এসেছে। বিয়ের জন্য ধর্ম পরিবর্তন করতেও তার আপত্তি নেই বলে সে তখন পুলিশকে জানিয়েছিল।
তবে পরে বাবা থানায় পৌঁছানোর পর কিশোরীর বক্তব্যে পরিবর্তন আসে। বাবার সঙ্গে কথা বলার পর সে জানায়, বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে এত দূরে চলে আসার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। সে আর ওই কিশোরের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় না এবং বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরে গিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চায়।
কিশোরী বলে, ‘আমার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। আমি এসএসসি পাস করেছি। লেখাপড়া করে মানুষ হতে চাই। আমি বাবার সঙ্গে গাজীপুর চলে যাব এবং পড়াশোনা করব।’
খবর পেয়ে কিশোরীর বাবা আনোয়ার হোসেন শেখ গাজীপুর থেকে পাথরঘাটায় আসেন। তিনি বলেন, মেয়েকে কাউকে কিছু না জানিয়ে এত দূরে চলে আসার ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা হতবাক হয়ে যান। পুলিশের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তারা দ্রুত পাথরঘাটায় ছুটে আসেন। পরে মেয়েকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল আলীম বলেন, ‘একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে মুসলিম পরিবারের এক কিশোরী এসেছে - এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে দুজনকে থানায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বলেন, ছেলে-মেয়ে দুজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ ঘটনায় কোনো মামলা বা অভিযোগ হয়নি। কিশোরীকে অনেক বুঝিয়ে বলার পর সে তার ভুল বুঝতে পারে এবং অভিভাবকের সঙ্গে বাড়ি ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
তিনি বলেন, কিশোরীকে পুলিশি হেফাজতে রেখে তার অভিভাবককে খবর দেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কিশোরীকে তার পরিবারের কাছে এবং কিশোরকে তার পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনাটি সংবেদনশীল হওয়ায় মানবিক, শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিশোর-কিশোরী দুজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও পুলিশের নজর ছিল।
বাংলাদেশ সময়: ১৯:২৮:৩৬ ● ৯ বার পঠিত
