বৃহস্পতিবার ● ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমতলীতে কোটি টাকার কাঁচাবাজার এখন ব্যবসায়ীদের ‘গলার কাঁটা’

হোম » বরগুনা » আমতলীতে কোটি টাকার কাঁচাবাজার এখন ব্যবসায়ীদের ‘গলার কাঁটা’
বৃহস্পতিবার ● ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

আমতলীতে কোটি টাকার কাঁচাবাজার এখন ব্যবসায়ীদের ‘গলার কাঁটা’

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনার আমতলী পৌরসভায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পৌর কাঁচাবাজার চালু না হওয়ায় এটি এখন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রত্যাশিত ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম না হওয়ায় সরকারি অর্থে নির্মিত বিশাল অবকাঠামোটি কার্যত অব্যবহৃত পড়ে আছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, আমতলী পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে কাঁচাবাজার নির্মাণ না করে শহর থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে পায়রা নদীর তীরে গরুর হাটসংলগ্ন এলাকায় বাজারটি নির্মাণ করা হয়েছে। দূরত্ব ও যাতায়াত ব্যয়ের কারণে সাধারণ ক্রেতারা সেখানে যেতে আগ্রহী নন।

 

তাদের দাবি, শহর থেকে রিকশায় বাজারে যাওয়া-আসায় অতিরিক্ত ৩০ থেকে ৪০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য দূরের এ বাজারে নিয়মিত যাতায়াত কষ্টসাধ্য।

 

ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় খাসজমি থাকা সত্ত্বেও কেন এত দূরের স্থানকে কাঁচাবাজার নির্মাণের জন্য বেছে নেওয়া হলো। তাদের অভিযোগ, বাজারের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ক্রেতাদের যাতায়াত সুবিধা, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও স্থানীয় চাহিদাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

 

ব্যবসায়ী আক্কাস আলী বলেন, ‘পৌরসভার পাশে পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় অনেক জমি রয়েছে। সেখানে বাজার করলে মানুষ সহজে আসতে পারত। শহর থেকে এক কিলোমিটার দূরে কাঁচাবাজার করায় এখানে ক্রেতা-বিক্রেতা আসবে না।’

 

স্থানীয় বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘কাঁচাবাজার নির্মাণের ক্ষেত্রে মানুষের সুবিধা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবসায়ীদের আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল। এখন শহরের বর্তমান বাজারেই মানুষ সকালে হেঁটে বাজার করে কাজে যেতে পারে। দূরের বাজারে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ও ভাড়া ব্যয় করতে চাইবে না।’

 

সমাজসেবক আলাউদ্দিন সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘পৌর শহরের মানুষের প্রয়োজন ও বাজারের চাহিদা বিবেচনায় না নিয়ে নদীর পাড়ে কোটি টাকা ব্যয়ে কাঁচাবাজার নির্মাণ করা সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারি অর্থ ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি এখন ব্যবহারই না হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য কতটা পূরণ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

 

স্থানীয়দের দাবি, কী ধরনের সমীক্ষা ও যাচাইয়ের ভিত্তিতে কাঁচাবাজারের স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল, তা সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট করা উচিত। নির্মাণের আগে স্থানীয় ব্যবসায়ী, সম্ভাব্য ক্রেতা ও বাসিন্দাদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন ছিল বলেও তারা মনে করেন।

 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাজারটি যদি ক্রেতা-বিক্রেতার কাজে না আসে, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া সম্ভব নয়। তারা বাজারটির বর্তমান অবস্থা, স্থান নির্বাচন, প্রকল্প বাস্তবায়নের যৌক্তিকতা এবং অকার্যকর হয়ে পড়ার কারণ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কোটি টাকা ব্যয়ে আমতলী পৌর কাঁচাবাজারটি নির্মাণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:৩৯:০৬ ● ১৭ বার পঠিত