বুধবার ● ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সুগন্ধা নদীর তীরে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে দুর্ভোগ
হোম » ঝালকাঠী » সুগন্ধা নদীর তীরে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে দুর্ভোগ
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নলছিটি (ঝালকাঠি)
ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার সুগন্ধা নদীর তীরবর্তী লঞ্চঘাট এলাকায় অবাধে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। বর্জ্যের স্তূপ জমে নদীতীর ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় তীব্র দুর্গন্ধে পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে এসব বর্জ্য নদীতে ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার লঞ্চঘাট এলাকার পাশে উন্মুক্ত স্থান ও সুগন্ধা নদীর তীরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ময়লা-আবর্জনা। অনেকে সরাসরি নদীতেও বর্জ্য ফেলছেন। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের নাকে কাপড় দিয়ে ওই এলাকা অতিক্রম করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নলছিটি শহর এলাকার বাসিন্দাদের নিত্যদিনের বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট কোনো স্থান না থাকায় সুগন্ধা নদীর তীরেই ফেলা হচ্ছে আবর্জনা। বৃষ্টিতে এসব ময়লা নদীর পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে নদীর পানি দূষিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান, জাকির হোসেন, জামাল হোসেন ও আব্দুল কাদের বলেন, নদীতীরবর্তী এলাকায় অনেক পরিবার বসবাস করে, যারা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্জ্য নদীতে ছড়িয়ে পড়ায় নিম্ন আয়ের এসব মানুষ দূষিত পানি ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইদুল কবির রানা বলেন, নদীতীরবর্তী লঞ্চঘাটসংলগ্ন বাজারে সপ্তাহে দুই দিন বড় হাট বসে। এসব হাটে কয়েক হাজার ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম ঘটে। বিক্রেতাদের অবিক্রীত ও পচনশীল পণ্য নিয়মিত এখানে ফেলার কারণে ময়লার স্তূপ জমে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে পথচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
তিনি দ্রুত নলছিটিতে একটি আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের দাবি জানান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী খন্দকার জাহিদুল ইসলাম বলেন, নলছিটি বন্দর নদীকেন্দ্রিক হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা নৌকায় করে এখানে পণ্য বিক্রি করতে আসেন। কৃষকরাও উৎপাদিত পণ্য নিয়ে আসেন। কিন্তু নৌকাঘাটের পাশেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের পাশাপাশি আশপাশের মসজিদের মুসল্লিদেরও অজু ও অন্যান্য কাজে সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নলছিটি পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীম কুমার কুণ্ডু বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। দ্রুত স্থানটি পরিদর্শন করে সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ২২:০২:১০ ● ১০ বার পঠিত
