সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬

পুরোনো বই খুললেই মিষ্টি গন্ধ, জানেন এর রহস্য কী?

হোম » সর্বশেষ » পুরোনো বই খুললেই মিষ্টি গন্ধ, জানেন এর রহস্য কী?
সোমবার ● ৩১ আগস্ট ২০২৬


 

পুরোনো বই খুললেই মিষ্টি গন্ধ, জানেন এর রহস্য কী?

সাগরকন্যা প্রতিবেদক,

 

পুরোনো বইয়ের পাতা উল্টালেই নাকে আসে এক ধরনের মিষ্টি, হালকা কাঠের মতো পরিচিত গন্ধ। কারও কাছে এটি ফিরিয়ে আনে শৈশবের স্মৃতি, আবার কারও মনে করিয়ে দেয় পুরোনো লাইব্রেরির পরিবেশ। কিন্তু বইয়ের পাতায় এমন মন ভালো করা গন্ধ তৈরি হয় কীভাবে?

 

এর উত্তর লুকিয়ে আছে বই তৈরির উপাদান এবং সময়ের সঙ্গে কাগজে ঘটে যাওয়া রাসায়নিক পরিবর্তনের মধ্যে।

 

কাগজ মূলত কাঠ থেকে তৈরি হয়। কাঠে সেলুলোজ ও লিগনিনের মতো প্রাকৃতিক উপাদান থাকে। বই যত পুরোনো হতে থাকে, কাগজের এসব উপাদান ধীরে ধীরে ভাঙতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরনের উদ্বায়ী রাসায়নিক যৌগ তৈরি হয়। সেগুলো বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং আমাদের নাকে পুরোনো বইয়ের সেই বিশেষ ঘ্রাণ হিসেবে ধরা দেয়।

 

ভ্যানিলার মতো গন্ধ কেন?

 

পুরোনো বইয়ের গন্ধের সঙ্গে ভ্যানিলার মিল থাকার অন্যতম কারণ ‘ভ্যানিলিন’ নামের একটি রাসায়নিক যৌগ। ভ্যানিলার পরিচিত মিষ্টি ঘ্রাণের জন্যও এই যৌগ দায়ী।

 

কাগজে থাকা লিগনিন সময়ের সঙ্গে ভাঙার সময় ভ্যানিলিনসহ বিভিন্ন উদ্বায়ী জৈব যৌগ তৈরি হতে পারে। এ কারণেই অনেক পুরোনো বইয়ের পাতায় ভ্যানিলার মতো মিষ্টি গন্ধ পাওয়া যায়।

 

তবে শুধু ভ্যানিলিনই নয়, কাগজের বিভিন্ন উপাদান ভেঙে তৈরি হওয়া আরও অনেক রাসায়নিক যৌগ বইয়ের স্বতন্ত্র গন্ধ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তাই কোনো পুরোনো বইয়ের গন্ধ মিষ্টির মতো, কোনোটি চকলেটের মতো, আবার কোনোটি বাদাম বা কাঠের মতো মনে হতে পারে।

 

বিজ্ঞানীরাও খুঁজেছেন গন্ধের রহস্য

 

২০০৯ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘ম্যাটেরিয়াল ডিগ্রাডোমিক্স’ পদ্ধতি ব্যবহার করে পুরোনো বই ও ঐতিহাসিক কাগজে থাকা রাসায়নিক উপাদান বিশ্লেষণ করেন। এর মাধ্যমে কাগজ কতটা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এবং বইটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা কতটুকু, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব হয়।

 

ঐতিহাসিক বই ও পুরোনো কাগজের গন্ধ শনাক্ত করার জন্য গবেষকেরা ‘হিস্টোরিক পেপার ওডর হুইল’ নামে একটি নির্দেশিকাও তৈরি করেছেন। এতে পুরোনো কাগজ থেকে বের হওয়া বিভিন্ন ধরনের গন্ধকে পরিচিত নানা ঘ্রাণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

 

নতুন বইয়ে কেন সেই গন্ধ নেই?

 

আধুনিক কাগজ তৈরির পদ্ধতিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রক্রিয়াজাত উপাদান ব্যবহার করা হয়। কাগজকে দীর্ঘদিন সাদা রাখা এবং দ্রুত হলুদ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে এতে লিগনিনের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়।

 

ফলে নতুন বইয়ের কাগজে পুরোনো দিনের কাগজের মতো রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে না। সময়ের সঙ্গে তৈরি হওয়া সেই বিশেষ উদ্বায়ী যৌগও তুলনামূলক কম থাকে। তাই নতুন বইয়ের পাতায় পুরোনো বইয়ের সেই পরিচিত, মিষ্টি ও স্মৃতিমাখা ঘ্রাণ পাওয়া যায় না।

 

পুরোনো বইয়ের এই গন্ধ তাই শুধু নস্টালজিয়া নয়, বরং সময়ের সঙ্গে কাগজের ভেতরে চলতে থাকা এক ধরনের রাসায়নিক ইতিহাসেরও সাক্ষী।

বাংলাদেশ সময়: ৬:৩৮:৪১ ● ১৮ বার পঠিত