রবিবার ● ৩০ আগস্ট ২০২৬

আমতলী পৌর লেকের ১২ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ওয়াকওয়ের ড্রপওয়ালে ধস

হোম » বরগুনা » আমতলী পৌর লেকের ১২ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ওয়াকওয়ের ড্রপওয়ালে ধস
রবিবার ● ৩০ আগস্ট ২০২৬


আমতলী পৌর লেকের ১২ কোটি টাকার প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ওয়াকওয়ের ড্রপওয়ালে ধস

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

বরগুনার আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকার এ প্রকল্পের নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের ড্রপওয়ালের একটি অংশ রোববার ধসে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের কাজের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তবে পৌরসভার প্রকৌশলীর দাবি, সেন্টারিংয়ের সাপোর্ট খুলে যাওয়ায় ঢালাইয়ের অংশবিশেষ ধসে পড়েছে।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধনে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান গোপনে প্রকল্পটির দরপত্র আহ্বান করেন এবং ঝালকাঠির ইসলাম ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ দেওয়া হলেও প্রকল্পের মূল কাজ পরিচালনা করছেন সাবেক পৌর মেয়র ও আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ ঘোষিত সভাপতি মতিয়ার রহমান।

প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয়নি। পরে ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর তৎকালীন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রোববার সকালে শ্রমিকরা ওয়াকওয়ের কাজ করার সময় নির্মাণাধীন ড্রপওয়ালের একটি অংশ ধসে পড়ে। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। অভিযোগ রয়েছে, পরে ঠিকাদারের লোকজন ধসে যাওয়া অংশটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেন।

এ ঘটনায় ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে। সাংবাদিক নাসরিন শিপু, রিমন ও রাসেলের অভিযোগ, ঠিকাদার মতিয়ার রহমানের ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র, ব্যক্তিগত সহকারী পান্নু মোল্লা ও তাদের সহযোগীরা ছবি তুলতে বাধা দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন, নুরুল ইসলাম ও সাইদুজ্জামান বলেন, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয়রা কয়েকবার প্রশাসনকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন ড্রপওয়াল ধসে পড়ায় অনিয়মের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ বলেন, লাইসেন্স দিয়েছি, এটা সত্য। কিন্তু কাজ করেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান। সেখানে আমার কিছুই নেই। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।

এ বিষয়ে সাবেক আমতলী পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান ওয়াকওয়ের ড্রপওয়ালের অংশ ধসে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মূল পিলার বা পাইলিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সেন্টারিংয়ের কাঠ বা সাপোর্ট খুলে যাওয়ার কারণে ঢালাইয়ের অংশটি কিছুটা ধসে পড়েছে। তিনি বলেন, যে অংশটিতে সমস্যা হয়েছে, সেটির কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।


এমএইচকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৭:২২ ● ৩৪ বার পঠিত