শনিবার ● ২৯ আগস্ট ২০২৬
মাযহাব অস্বীকারের প্রবণতা থেকে মুসলমানদের সতর্ক থাকতে হবে-ছারছীনার পীর ছাহেব
হোম » ইসলামী জীবন » মাযহাব অস্বীকারের প্রবণতা থেকে মুসলমানদের সতর্ক থাকতে হবে-ছারছীনার পীর ছাহেব![]()
সাগরকন্যা ডেস্ক
আমীরে হিযবুল্লাহ ও ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব কেবলা আলহাজ্ব হযরত মাওলানা শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন, মাযহাব অস্বীকার করে দ্বীনের গভীর ও সুসংহত জ্ঞান অর্জনের পথকে উপেক্ষা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। কুরআন-সুন্নাহর বিধান নিজের খেয়াল-খুশি বা সীমিত জ্ঞানের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। ইসলামের বিধান সঠিকভাবে বুঝতে হলে যোগ্য আলেম, ফকিহ ও মুজতাহিদ ইমামদের ব্যাখ্যা ও গবেষণার ওপর নির্ভর করতে হবে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর টিবি গেট এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মসজিদে গাউসুল আজম কমপ্লেক্সে তিন দিনব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলের শেষ দিনের প্রধান অতিথির আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
ছারছীনার পীর ছাহেব বলেন, মাযহাব ও তাকলীদের বিষয়টি হাদিসের কিতাবগুলো সংকলিত হওয়ার আগেই ইজমায়ে উম্মতের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। চার মাযহাবের ইমাম - ইমাম আবু হানিফা (রহ.), ইমাম মালেক (রহ.), ইমাম শাফেয়ি (রহ.) ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ.) - কুরআন-সুন্নাহর দলিল, সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং গভীর ফিকহি গবেষণার ভিত্তিতে উম্মাহর জন্য দ্বীনি বিধান অনুধাবনের সুসংহত পথ দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, ইমামে আজম আবু হানিফা (রহ.) তাবেয়ী ছিলেন এবং অপর তিন ইমাম তাবে-তাবেয়ীন যুগের ছিলেন। চার ইমামই হাদিসশাস্ত্রে পারদর্শী ছিলেন। তারা কুরআন-সুন্নাহর দলিল ও ফিকহি গবেষণার আলোকে ইসলামী বিধান ব্যাখ্যা করেছেন। তাই মাযহাবকে অস্বীকার করা কিংবা মাযহাব অনুসরণকারী মুসলমানদের হেয় করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, কুরআন-হাদিসের নাম ব্যবহার করে নিজের মনমতো ব্যাখ্যা দেওয়া দ্বীনের খেদমত নয়। ফিকহের বিশাল জ্ঞান, আরবি ভাষা, হাদিসের বিভিন্ন স্তর, নাসিখ-মানসুখ, আম-খাস ও মুতলাক-মুকাইয়্যাদসহ অসংখ্য বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান ছাড়া শরিয়তের বিধান নির্ধারণ করা আত্মপ্রবঞ্চনার শামিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি ভিডিও দেখা বা অনুবাদ পড়ে কেউ নিজেকে ফকিহ মনে করলে তা দ্বীনের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্বীনের বিষয়ে আবেগের পরিবর্তে বিজ্ঞ ও যোগ্য আলেমদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ছারছীনার পীর ছাহেব বলেন, মাযহাবের ইজতিহাদি মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে উম্মাহর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। একই সঙ্গে মাযহাবের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে মানুষকে বিজ্ঞ আলেমদের অনুসরণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার প্রবণতাও প্রতিহত করতে হবে।
তিনি মাযহাব নিয়ে অযথা বিতর্ক, বিদ্বেষ ও বিভ্রান্তি ছড়ানো থেকে বিরত থেকে নিজেদের আমল-আখলাক সংশোধন এবং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন গঠনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীনের সভাপতিত্বে মাহফিলের শেষ দিনে আরও ওয়াজ-নসীহত করেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সিনিয়র নায়েবে আমীর আলহাজ্ব হযরত মাওলানা হাফেজ শাহ আবু বকর মোহাম্মদ ছালেহ নেছারুল্লাহ, ছারছীনা দারুচ্ছুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মো. মামুনুল হক, বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মো. হেমায়েত বিন তৈয়্যেব এবং পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী মাওলানা মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ।
পরিশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে ছারছীনার পীর ছাহেব কেবলা তিন দিনব্যাপী মাহফিলের আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিদের আমিন আমিন ধ্বনি ও কান্নায় আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রেসনোট/এমআর
বাংলাদেশ সময়: ২০:৩০:১৩ ● ৩২ বার পঠিত
