বৃহস্পতিবার ● ২৭ আগস্ট ২০২৬
গৌরনদী টিটিসির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
হোম » বরিশাল » গৌরনদী টিটিসির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
বরিশালের গৌরনদী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুনের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণ ভাতা না দেওয়াসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্বেচ্ছাচারিতা, উদাসীনতা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও করেছেন প্রশিক্ষণার্থী, কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কেন্দ্রের কর্মচারী, প্রশিক্ষণার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি বাড়িভাড়া না দেওয়ার জন্য সরকারি বিধিমালা অমান্য করে অধ্যক্ষসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষ দখল করে আবাসিক কোয়ার্টার হিসেবে বসবাস করছেন। এছাড়া কেন্দ্রের ভেতরে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করায় পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও জামিলা বেগম ওরফে করলা নামে এক নারী টিটিসির ভেতরে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। তিনি মেসে তিন বেলা খাবার রান্না করে কিছু খাবার কেন্দ্রের সামনে একটি কম্পিউটার দোকানের মালিকের কাছে প্রতিদিন বিক্রি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাকে টিটিসির ভেতরে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় দোকানদার সুজন ফকির বলেন, টিটিসির অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের ভাই হওয়ার সুবাদে কম্পিউটার দোকানদার আমিন খান টিটিসির মেসে মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা খরচ দিয়ে তিন বেলা খাবার খান।
টিটিসির পঞ্চম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থী লিমন ফকিরসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার ছয় মাস পার হলেও তারা বরাদ্দকৃত ভাতার টাকা পাননি। ভাতার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশিক্ষকদের সঙ্গে তাদের একাধিকবার কথাকাটাকাটি হয়েছে।
স্থানীয় মুদি দোকানদার জসিম মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের কথায় তার শ্যালককে টিটিসিতে কাজে দিয়েছিলেন। তিন মাস কাজ করার পর শ্যালককে বেতনের অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা আল-আমিন আত্মসাৎ করলে চাপের মুখে তা ফেরত দিতে বাধ্য হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগ করেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রমের সরকারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের কেন্দ্রের সামনের আমিন খানের কম্পিউটার দোকানে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ভর্তি ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ওই দোকানের মালিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কর্মরত অতিরিক্ত হিসাবরক্ষক আল-আমিনের সহোদর ভাই।
গত ১৭ আগস্ট আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সারহাটের সাইদুল ইসলাম প্রবাসে যাওয়ার জন্য টিটিসিতে প্রশিক্ষণে ভর্তি হতে আসেন। এ সময় তিনি কেন্দ্রের তৃতীয় তলা থেকে কর্মচারী আব্দুল কাদেরের মাধ্যমে সরাসরি ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। বিষয়টি জানতে পেরে অধ্যক্ষ আব্দুল কাদেরকে ভবিষ্যতে এভাবে কেন্দ্রের ভেতর থেকে ভর্তি কার্যক্রম না করার জন্য সতর্ক করেন বলে জানা গেছে।
কম্পিউটার দোকানের পরিচালক মো. আমিন খান বলেন, প্রশিক্ষণে ছেলেদের ভর্তি করতে ৬৫০ টাকা খরচ হয়। নারীদের ভর্তি করতে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ পড়ে। তবে কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ আবুল বাশার আল মামুন বলেন, সরকারি কোয়ার্টার হ্যান্ডওভার না করায় তারা কোয়ার্টারে থাকেন না। কেন্দ্রের ভেতরে হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালনের বিষয়টিও তেমন কোনো সমস্যা নয়। এতে সরকারের কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
টিটিসির ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। এ কারণে তারা ভেতরে থাকছেন। ওই নারীকে রাতযাপনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি আগে একটি প্রকল্পে কাজ করতেন। বর্তমানে তার চাকরি নেই। মানবিক কারণে তাকে থাকতে দেওয়া হয়েছে।
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেননি। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:০০:২৫ ● ৩৬ বার পঠিত
