মঙ্গলবার ● ২৫ আগস্ট ২০২৬
গলাচিপায় জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থাভাবে অনিশ্চিত ফারজানার পড়াশোনা
হোম » শিক্ষা » গলাচিপায় জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থাভাবে অনিশ্চিত ফারজানার পড়াশোনা
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপার মেধাবী শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার। চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন তার। কিন্তু দিনমজুর বাবার সামান্য আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মেয়ের উচ্চশিক্ষার খরচ জোগানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার।
ফারজানা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রামানন্দ গ্রামের সরদার বাড়ির মজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ মেয়ে। সে পশ্চিম তাফালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
চার সদস্যের পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ফারজানার বাবা মজিবুর রহমান। দিনমজুরি করে পাওয়া আয় দিয়ে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেই তাকে হিমশিম খেতে হয়। পরিবারের একমাত্র ছেলে প্রতিবন্ধী। ফারজানার বড় বোনও এইচএসসিতে ভালো ফল করেছিলেন। কিন্তু অর্থের অভাবে পরবর্তী সময়ে তার লেখাপড়া আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
দুর্গম এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে পড়ার সময় ফারজানার কোচিং বা প্রাইভেট পড়ার সুযোগ ছিল না। নিজের অধ্যবসায়, নিয়মিত পড়াশোনা এবং শিক্ষকদের সহযোগিতায় সে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করেছে। প্রতিকূল আবহাওয়াতেও নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেছে ফারজানা।
পশ্চিম তাফালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ফারজানা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। কোনো বিষয় একবার বুঝিয়ে দিলে সে দ্রুত আয়ত্ত করতে পারত। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও নিয়মিত বিদ্যালয়ে এসেছে। আর্থিক সহযোগিতা পেলে তার পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘৩০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে অনেক শিক্ষার্থী ভালো ফল করেছে। তবে ফারজানার মতো মেধাবী শিক্ষার্থী খুব কমই দেখেছি। স্কুলের বাইরে কোনো কোচিং বা প্রাইভেট পড়া ছাড়াই সে নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমে জিপিএ-৫ পেয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ফারজানার বড় ভাই-বোনেরাও অর্থের অভাবে লেখাপড়া শেষ করতে পারেননি। আমরা চাই না, ফারজানার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটুক। সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে সে তার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।’
ফারজানার বাবা মজিবুর রহমান বলেন, ‘দিনমজুরি করে আমার একার আয় দিয়ে সংসার চালাতেই কষ্ট হয়। মেয়ের পড়াশোনার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। মেয়েটা এত ভালো ফল করেছে। টাকার অভাবে যদি তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?’
ফারজানা আক্তার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ডাক্তার হওয়া। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছি। এখন শুধু টাকার অভাবে আমার পড়াশোনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সে আরও বলে, ‘সরকার বা সমাজের কেউ সহযোগিতা না করলে আমার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। আমি শুধু পড়াশোনা করে আমার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।’
বাংলাদেশ সময়: ১০:৪১:৫৯ ● ২৪ বার পঠিত
