বৃহস্পতিবার ● ২০ আগস্ট ২০২৬

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বাউফলে ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ

হোম » পটুয়াখালী » চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বাউফলে ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার ● ২০ আগস্ট ২০২৬


 

চাঁদাবাজির প্রতিবাদে বাউফলে কালাইয়া বন্দরের ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদাবাজির অভিযোগ ও ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দোকানপাট বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন কালাইয়া বন্দরের ফার্নিচার ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। পরে বন্দরের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও তাদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচিতে যোগ দেন।

 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী সিনেমা হল সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বন্দরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজি, হুমকি ও হামলার অভিযোগ তুলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

মায়ের দোয়া ফার্নিচার মার্টের মালিক মো. শহিদুল মোল্লার অভিযোগ, গত সোমবার (১৭ আগস্ট) ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন কয়েকজন লোক নিয়ে তার দোকানে গিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এরপরও ইয়াসিন ও তার সহযোগীরা তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

শহিদুল মোল্লা বলেন, বিষয়টি তিনি যুবদল নেতা স্বপন মৃধা, রুবেল চৌকিদার ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রিয়াজ পঞ্চায়েতকে জানান। পরে স্বপন মৃধা বিষয়টি কালাইয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ইব্রাহিমকে অবহিত করেন। ইব্রাহিম উভয় পক্ষকে নিয়ে সালিশের উদ্যোগ নিতে যুবদল নেতা স্বপন মৃধাকে বলেন।

 

শহিদুলের অভিযোগ, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় সুন্দরী সিনেমা হলের একটি কক্ষে সালিশ চলাকালে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আরও লোকজন নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। একপর্যায়ে তিনি সালিশকারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং উপস্থিত ব্যবসায়ীদের ওপর লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে হামলা চালান। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহিন মোল্লা, মো. রাব্বি ও শহিদুল নামে তিনজনকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

 

শহিদুল মোল্লা বলেন, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। সালিশে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সেখানে হামলার ঘটনা ঘটে। আমরা এ ঘটনায় বাউফল থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

 

যুবদল নেতা স্বপন মৃধা বলেন, উভয় পক্ষই আমাদের সালিশ মেনে নিয়েছিল। কিন্তু সালিশ চলাকালে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম সালিশকারীদের সঙ্গে যে অশালীন আচরণ করেছেন, তা সত্যিই দুঃখজনক।

 

অভিযোগের বিষয়ে ছাত্রদল নেতা ইয়াসিনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম বলেন, ঘটনাটি একেবারেই মিথ্যা। ইয়াসিন চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। এটি একটি সাজানো নাটক। এখানে জামায়াত জড়িত। ইয়াসিন চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত থাকলে তার প্রমাণ দিতে হবে। প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেব।

 

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫০:০৮ ● ১৮ বার পঠিত