বুধবার ● ১৯ আগস্ট ২০২৬
এক যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি যেখানে, কাদামাটির রাস্তায় চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী
হোম » খুলনা » এক যুগেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি যেখানে, কাদামাটির রাস্তায় চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)
খুলনার কয়রা উপজেলা সদর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি পুকুরপাড়সংলগ্ন একমাত্র কাঁচা রাস্তাটি যেন উন্নয়নের বাইরে পড়ে থাকা এক জনপদের চিত্র। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও রাস্তাটিতে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাঁচা রাস্তাটি পরিণত হয় কাদামাটির পথে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ওই এলাকার শতাধিক পরিবারের মানুষ।
রাস্তাটির দুই পাশে বসবাস করেন শতাধিক পরিবার। প্রতিদিন কাদামাটির পথ মাড়িয়েই কোমলমতি শিশুদের স্কুলে যেতে হয়। শুধু শিক্ষার্থী নয়, বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষকেও এই পথ ব্যবহার করতে গিয়ে দুর্ভোগে পড়তে হয়। গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের প্রয়োজনও এই রাস্তাকে ঘিরেই। কৃষকের উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া, নারীদের সরকারি পুকুর থেকে পানি সংগ্রহসহ নানা কাজে প্রতিদিন ব্যবহার করতে হয় রাস্তাটি।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তার আশপাশে রয়েছে কয়রা সিদ্দীকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ৪ নম্বর কয়রা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের চলাচলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। বর্ষা মৌসুমে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে কাদামাটি জমে যাওয়ায় অনেক সময় পায়ে হেঁটেও চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সালাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তাটি কাঁচা। বছরের পর বছর এভাবেই চলাচল করতে হচ্ছে আমাদের। বৃষ্টির দিনে শিশুদের স্কুলে যেতে জামা-কাপড় ও জুতা কাদায় নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় রাস্তার অবস্থা খারাপ থাকায় স্কুলে যেতেও সমস্যা হয়।
নাজমা খাতুন নামে এক গৃহবধূ বলেন, প্রতিদিন গৃহস্থালি কাজের জন্য সরকারি পুকুরে পানি নিতে যেতে হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নারী ও বয়স্কদের চলাচল খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই দ্রুত রাস্তাটি ইট দিয়ে পাকা করা হোক।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নাজমুচ্ছায়াদাত বলেন, প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা এই রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের এক অর্থবছরের বরাদ্দ দিয়ে পুরোপুরি পাকা করা সম্ভব নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যে বরাদ্দ পেয়েছি, তা দিয়ে প্রায় ৬ চেইন রাস্তা পাকা করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে আগে এই রাস্তাটি পাকা করা হবে।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এস এম লুৎফর রহমান জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাওয়া বরাদ্দ দিয়ে ওই রাস্তার এক মাথা থেকে কিছু অংশের কাজ করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া গেলে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তাটির বাকি অংশের কাজ করা হবে। এতে দ্রুত এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আধুনিক সভ্যতার এই সময়ে এক যুগ ধরে একটি জনপদের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা কেন এমন কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী পড়ে থাকবে? দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে ইট সলিংয়ের মাধ্যমে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
বাংলাদেশ সময়: ১৮:২৪:৪৭ ● ২৮ বার পঠিত
