শুক্রবার ● ১৪ আগস্ট ২০২৬
মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় চান কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীর মানুষ
হোম » লিড নিউজ » মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় চান কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীর মানুষ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভার সদস্য করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
কৃষি, মৎস্য ও পর্যটননির্ভর কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। কলাপাড়ায় সচল রয়েছে ২ হাজার ৬৪০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। রয়েছে পায়রা সমুদ্রবন্দর, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শের-ই-বাংলা নৌঘাঁটিসহ একাধিক কেপিআই এলাকা। পাশাপাশি কুয়াকাটাকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিস্তৃত সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, এ অঞ্চলের শিল্প, কৃষি, মৎস্য ও পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে তা জাতীয় উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এ দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আবেদন জানাচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৬ বছর পর এবিএম মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে এই আসনে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় এবং ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পরও তাঁর নেতৃত্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সহিংসতা ঘটেনি। এই জনপদকে শান্তির জনপদে পরিণত করেছেন তিনি। এখন আমাদের প্রাণের দাবি, তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা।’
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনের পর মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে এমপি মোশাররফ হোসেনের কঠোর নির্দেশনায় এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক সহাবস্থানেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ড্রেনেজ খালের ব্যবস্থাপনা কৃষকের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন বৃহত্তর পরিসরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে তাঁকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া সময়ের দাবি।’
যুবদল নেতা ও উদ্যোক্তা রিয়াজ তালুকদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবিএম মোশাররফ হোসেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে চার দশক পর এই অঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বেড়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা না হওয়াও ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে তাঁকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাই।’
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীত করতে এবং পর্যটননির্ভর জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবিএম মোশাররফ হোসেনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি কলাপাড়া-রাঙ্গাবালীর বিভিন্ন জনপদ, বাজার ও চায়ের দোকানেও সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, সরকারের চলমান উন্নয়ন পরিকল্পনায় দক্ষিণাঞ্চলের এই সম্ভাবনাময় জনপদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:১২:০১ ● ৩৭ বার পঠিত
