শুক্রবার ● ৭ আগস্ট ২০২৬

ভারপ্রাপ্তদের ভরসায় চলছে শিক্ষা কার্যক্রম, কয়রার ৮৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক

হোম » খুলনা » ভারপ্রাপ্তদের ভরসায় চলছে শিক্ষা কার্যক্রম, কয়রার ৮৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক
শুক্রবার ● ৭ আগস্ট ২০২৬


ভারপ্রাপ্তদের ভরসায় চলছে শিক্ষা কার্যক্রম, কয়রার ৮৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষকসাগরকন্যা প্রতিবেদক, কয়রা (খুলনা)

 

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৫৯টিতে প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। বাকি ৮৩টি বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে। পাশাপাশি ২১টি সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।

 

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনুমোদিত সহকারী শিক্ষকের পদ ৭৩২টি। বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৭১১ জন, শূন্য রয়েছে ২১টি পদ। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি না হওয়া, অবসর, মৃত্যু এবং নতুন নিয়োগ না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে।

 

এদিকে নতুন জাতীয়করণ হওয়া ১৯টি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রধান শিক্ষকের পদ নিয়ে আদালতে মামলা করায় ওই বিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বা পদায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা জানান, যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, সেখানে সহকারী শিক্ষকদেরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের নিয়মিত পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। আবার সহকারী শিক্ষক সংকট থাকলে প্রধান শিক্ষককেও প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

 

উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের বতুলবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহীদ হাসান বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে চারজন শিক্ষকের মধ্যে একজন ডেপুটেশনে রয়েছেন। বর্তমানে তিনজন শিক্ষক দিয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান ও দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয় পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে।

 

কয়রা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, শূন্য পদে পদোন্নতির যোগ্য শিক্ষকদের তালিকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

 

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহিদুল আলম বলেন, শিক্ষক নিয়োগ ও শূন্য পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত হাইকোর্টে চলমান মামলাটি ইতোমধ্যে খারিজ হয়েছে। নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কয়রাসহ জেলার অন্যান্য উপজেলার শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:১১:২৭ ● ১৭ বার পঠিত