বৃহস্পতিবার ● ৬ আগস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, পবিপ্রবির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

হোম » পটুয়াখালী » শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, পবিপ্রবির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি
বৃহস্পতিবার ● ৬ আগস্ট ২০২৬


শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতার অভিযোগ, পবিপ্রবির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দুমকি (পটুয়াখালী)

পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গোপন তৎপরতা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৪ ও ৫ আগস্ট বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের গোপন তৎপরতা-শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ নামের একটি অনলাইন গ্রুপের মাধ্যমে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক গোপন তৎপরতা ও নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত ছিলেন। তাদের মধ্যে পবিপ্রবির কয়েকজন শিক্ষকের নামও উঠে আসে।

এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের পরিচয়, কার্যক্রম ও দায় নিরূপণের জন্য পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাশার খান এবং কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ। সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেন।

আদেশে কমিটিকে সত্যানুসন্ধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তরা বিগত সরকারের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন বা আন্দোলনকারীদের হুমকি-ধমকিতে জড়িত ছিলেন কি না, তাও তদন্ত করতে বলা হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পবিপ্রবি আইন, ২০০১-এর ৪৭(৪) ধারা, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(ঙ) ধারা এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১২৪ক ধারাসহ প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরিচ্যুতি বা বরখাস্তের মতো প্রশাসনিক ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এর আগে, শেখ হাসিনার সঙ্গে অনলাইনে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগে পবিপ্রবির কয়েকজন শিক্ষকের নাম বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসুর নাম ওই ঘটনায় নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১২:২০:৫৯ ● ১৭ বার পঠিত