বুধবার ● ৫ আগস্ট ২০২৬

আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন, বরগুনায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ

হোম » আইন-আদালত » আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন, বরগুনায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ
বুধবার ● ৫ আগস্ট ২০২৬


আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন, বরগুনায় এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশসাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

আদালতে মিথ্যা ও যাচাইবিহীন তথ্য উপস্থাপন করে এক আসামিকে শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করায় বরগুনার বেতাগী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে গৃহীত ব্যবস্থার অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বরগুনার পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বরগুনার বেতাগী আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা বেতাগী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নজরুল ইসলাম।

 

আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, জি.আর. নম্বর-১৬/২০২৫ (বেতাগী) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম আসামি মো. সাইফুল ইসলাম বনি আমিনকে ওই মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর আবেদন করেন। তবে মামলার নথি পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, মামলার ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। অথচ ওই আসামি অন্য একটি মামলা (জি.আর.-৪৮/২০২৫, বরগুনা)-এ ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত বরগুনা জেলা কারাগারে আটক ছিলেন। অর্থাৎ অভিযোগের ঘটনার সময় তিনি কারাগারেই ছিলেন। এরপরও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়া এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭(ক) ধারার বিধান উপেক্ষা করে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়।

 

আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, এ ধরনের আবেদন একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার চরম অপব্যবহারের শামিল। আদেশে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট আসামি একই ঘটনায় হাইকোর্ট বিভাগের ফৌজদারি মিস কেস নম্বর-৩১৫৮৩/২০২৫-এ ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনও পেয়েছিলেন।

 

এ ঘটনায় গত ২৯ জুলাই আদালত তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলামকে স্বশরীরে হাজির হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।

 

জবাবে এসআই নজরুল ইসলাম জানান, একটি গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে তিনি আদালতে শোন অ্যারেস্টের আবেদন করেছিলেন। সূত্রের দেওয়া তথ্য ভুল হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এ ভুল হয়েছে। আসামি অন্য মামলায় কারাগারে ছিলেন, সেটিও তার জানা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন। এজন্য তিনি আদালতের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকার অঙ্গীকার করেন।

 

তবে আদালত তার ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি। আদেশে বলা হয়, একজন দায়িত্বশীল তদন্তকারী কর্মকর্তা কেবল গোপন সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন না। তথ্যের সত্যতা যাচাই করা তার আইনগত ও পেশাগত দায়িত্ব। একজন ব্যক্তি কারাগারে থাকা সত্ত্বেও বিষয়টি নিশ্চিত না করে আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা তদন্ত কর্মকর্তার চরম গাফিলতি, দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও পেশাগত অদক্ষতার পরিচায়ক।

 

এ অবস্থায় তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরগুনার পুলিশ সুপারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ২৯ আগস্টের মধ্যে গৃহীত ব্যবস্থার অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত তার আদেশের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরগুনার পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোরও নির্দেশ দিয়েছেন।

 

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের আদেশের কপি পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৩:৫৩:৩২ ● ৪৬ বার পঠিত