বুধবার ● ৫ আগস্ট ২০২৬
স্পেসএক্সের রকেট আছড়ে পড়বে চাঁদে, তৈরি হবে বিশাল গর্ত
হোম » প্রযুক্তি » স্পেসএক্সের রকেট আছড়ে পড়বে চাঁদে, তৈরি হবে বিশাল গর্ত
সাগরকন্যা আইটি ডেস্ক
মহাকাশের অসীম শূন্যতায় পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে লাখো কৃত্রিম বস্তু। এর মধ্যে সক্রিয় উপগ্রহের পাশাপাশি রয়েছে পরিত্যক্ত রকেট, অকেজো যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য মহাকাশ বর্জ্য। এসব বর্জ্য শুধু পৃথিবীর কক্ষপথেই নয়, চাঁদসহ মহাকাশের অন্যান্য অঞ্চলেও নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। এরই একটি উদাহরণ স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেটের চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার ঘটনা।
বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, রকেটটির অবশিষ্টাংশ ঘণ্টায় প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কিলোমিটার (প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২ দশমিক ৬ কিলোমিটার) বেগে চাঁদের গায়ে আঘাত হানে। সংঘর্ষে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রায় ৯০ ফুট প্রশস্ত এবং ১৬ ফুট গভীর একটি গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
মহাকাশ-বিশেষজ্ঞদের মতে, রকেটটি চাঁদের দূরবর্তী অংশে অবস্থিত আইন্সটাইন ক্রেটারের কাছাকাছি আঘাত হানে। এটি আগে দুটি লুনার ল্যান্ডার উৎক্ষেপণে ব্যবহৃত হয়েছিল। সংঘর্ষের সময় সৃষ্ট আলোর ঝলকানি এক সেকেন্ডেরও কম স্থায়ী হওয়ায় পৃথিবী থেকে তা খালি চোখে দেখা সম্ভব হয়নি। তবে আঘাতে সৃষ্ট ধুলাবালুর মেঘ কয়েক মাইল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং শক্তিশালী টেলিস্কোপে কিছু সময়ের জন্য তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়।
লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফার্নান্দো বলেন, চাঁদে বাতাস না থাকায় ধুলাবালু সহজে ছড়িয়ে যায় না বা দ্রুত মিলিয়েও যায় না। তাই মহাকাশ বর্জ্যের আঘাতের প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্লেষণ করা সম্ভব। ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে উঠলে এ ধরনের বর্জ্য নভোচারী ও অবকাঠামোর জন্য কতটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সেটিও এই গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সংঘর্ষের আগে ও পরে চাঁদের ওই অঞ্চলের ছবি সংগ্রহের পরিকল্পনা করে নাসার লুনার রিকনিসান্স অরবিটার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দানুরি লুনার অরবিটার। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের মাত্র দুই মিনিট আগে দানুরি মহাকাশযানটি রকেটটির এক থেকে দুই মাইলের মধ্যে অবস্থান করছিল। ওই ছবি বিশ্লেষণ করে সংঘর্ষের প্রভাব, সৃষ্ট গর্তের আকার এবং ছিটকে যাওয়া ধুলাবালুর বিস্তার নিয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সূত্র: ডেইলি মেইল
বাংলাদেশ সময়: ১১:২০:১৬ ● ২০ বার পঠিত
