মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬

পুলিশ হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: ওসিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ

হোম » ঢাকা » পুলিশ হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যু: ওসিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ
মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬


 

ডিবি হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মীর মৃত্যু: ওসিসহ ১১ জনের নামে বিভাগীয় মামলার সুপারিশ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ফরিদপুর

 

ফরিদপুরে ডিবি হেফাজতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মধুখালীর কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে প্রান্তর (২৭) মৃত্যুর ঘটনায় তৎকালীন ডিবির ওসিসহ ১১ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ সুপারিশ পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশপত্র ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যরা কোনো না কোনোভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রত্যেকের ভূমিকা নির্ধারণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

 

গত ২০ জুন বিকেলে মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্ধারদিয়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে নিজ বাড়ির সামনে থেকে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ইশতিয়াককে আটক করে। ডিবি হেফাজতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

 

ইশতিয়াক ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ফরিদপুর চিনিকলের মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

 

ঘটনার পর ২১ জুন সকালে অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) আহাদুজ্জামান বাদী হয়ে মধুখালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় দাবি করা হয়, ইশতিয়াকের কাছ থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

 

তবে ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশের মামলার বর্ণনার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার অসঙ্গতি রয়েছে। মামলায় ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হলেও ভিডিওতে দিনের বেলায় অভিযান পরিচালনার দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে ইশতিয়াককে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায় এবং ডিবি সদস্যদের তাঁকে মারধর ও তল্লাশি করতে দেখা যায়। ভিডিওতে এক পর্যায়ে একজন সদস্য দূরে ইশারা করে বলেন, ‘এই যে এক টোপলা, এই যে।’

 

এদিকে, ঘটনার পর ইশতিয়াকের মা খাদিজা আক্তার অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের সদস্যরা অর্থ দাবি করেছিলেন। তিনি এক লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে গেলেও জীবিত ছেলের পরিবর্তে তাঁর মরদেহ পান।

 

ঘটনাটি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় পরবর্তী প্রশাসনিক বা আইনি সিদ্ধান্ত পুলিশ সদর দপ্তরের পর্যালোচনার পর নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৩:১৯ ● ২৩ বার পঠিত