মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬

কথায় কথায় রেগে যান? যেসব কারণে হতে পারে এমন আচরণ

হোম » লাইফস্টাইল » কথায় কথায় রেগে যান? যেসব কারণে হতে পারে এমন আচরণ
মঙ্গলবার ● ৪ আগস্ট ২০২৬


 

সবসময় রেগে থাকেন? সমাধানে কী করবেন

সাগরকন্যা লাইফস্টাইল ডেস্ক

আমাদের আশপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা সামান্য কারণেই রেগে যান। অনেকেই এটিকে স্বভাব বলে মনে করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত রাগের পেছনে অনেক সময় মানসিক ও আবেগগত কিছু কারণ কাজ করে।

ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা

রাগ সব সময় শুধু ক্রোধ থেকে আসে না। অনেক ক্ষেত্রে ভয়, অনিশ্চয়তা বা নিরাপত্তাহীনতা থেকেও মানুষ রেগে যেতে পারেন। নিজের আত্মসম্মান, ভাবমূর্তি বা অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে হলে কিংবা প্রিয়জনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকলেও রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অযথা আশঙ্কা বা ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঘটনা নিয়ে অতিরিক্ত ভয়ের পরিবর্তে বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করলে মানসিক দৃঢ়তা বাড়ে এবং রাগও কমে।

উদ্বেগজনিত সমস্যা

দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ বা উৎকণ্ঠায় ভুগলে মানুষ সহজেই বিরক্ত ও রাগান্বিত হয়ে পড়তে পারেন। মানসিক চাপ, কর্মব্যস্ততা বা ব্যক্তিগত নানা কারণ থেকে এই উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

হালকা বা মাঝারি মাত্রার উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণে যোগব্যায়াম, বই পড়া, আরামদায়ক স্নান, ম্যাসাজ কিংবা মন শান্ত রাখার বিভিন্ন কৌশল উপকারী হতে পারে। তবে উদ্বেগ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে, তাহলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বেদনাদায়ক অতীতের প্রভাব

অতীতের কোনো ভয়াবহ বা বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা মানুষের আচরণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। যেমন—গুরুতর দুর্ঘটনা, সহিংস ঘটনার শিকার হওয়া, জীবনহানির আশঙ্কা তৈরি হওয়া বা প্রিয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু প্রত্যক্ষ করা।

এ ধরনের অভিজ্ঞতার কারণে কারও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিটিএসডি) হতে পারে। তখন অতীতের স্মৃতি ফিরে এলে বা সামান্য উসকানিতেই রাগের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। এমন সমস্যা দেখা দিলে থেরাপিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন।

অসহায়ত্বের অনুভূতি

জীবনের কোনো পরিস্থিতির ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ নেই বলে মনে হলে অনেকের মধ্যেই অসহায়ত্ব তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা, সম্পর্কের টানাপোড়েন, কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতা হারানোর অনুভূতি বা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে না পারার হতাশা থেকেও রাগের জন্ম হতে পারে।

মনোচিকিৎসকদের মতে, জীবনের কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। সেসব বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করতে পারলে রাগ ও হতাশা অনেকটাই কমে আসে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

যদি রাগের কারণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা কর্মজীবনে সমস্যা তৈরি হয়, অথবা সামান্য কারণেই বারবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: হেলদি বিল্ডারজেড

বাংলাদেশ সময়: ৬:৫৫:৫৩ ● ২৩ বার পঠিত