রবিবার ● ২ আগস্ট ২০২৬
ভোলায় মৃত শিক্ষকের নামে ২০ বছর ধরে বেতন তোলার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে
হোম » লিড নিউজ » ভোলায় মৃত শিক্ষকের নামে ২০ বছর ধরে বেতন তোলার অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে
![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, ভোলা
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় নামের মিলকে কাজে লাগিয়ে এক মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে প্রায় ২০ বছর সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মহিউদ্দিন। তিনি দাবি করেছেন, অর্থ দাবির বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।
সম্প্রতি মাদ্রাসার সুপার মো. নুরুজ্জামান এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ দেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ একই নামের আরেক ব্যক্তি মো. মহিউদ্দিন জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে মাদ্রাসায় নিয়োগ পান। তার ইনডেক্স নম্বর ছিল ৩৬৪৭৭৬ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬। পরবর্তীতে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও বর্তমান উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিন (পিতা: আছমত আলী মহাজন), যার নিজস্ব ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২ এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৫৭৭, তিনি ২০০৬ সালের ৭ অক্টোবর বিধিবহির্ভূতভাবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক হওয়ার পরও তথ্য গোপন করে তিনি নিয়োগ গ্রহণ করেন। পরে নামের মিলের সুযোগ নিয়ে মৃত শিক্ষকের ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। যদিও তিনি সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত, তবুও জুনিয়র শিক্ষক পদের বিপরীতে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে দাবি করা হয়, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এমপিও শিটে অভিযুক্ত মহিউদ্দিনের ইনডেক্সের বিপরীতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব নম্বর ৪৬০৬ ব্যবহৃত হয়েছে। এ ঘটনায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। হিসাব নম্বর এক হলেও ওই হিসাব থেকে আমি বেতন তুলি না। নিয়োগের সময়ও কোনো তথ্য গোপন করিনি। বেতন ইস্যু করেন মাদ্রাসার সুপার ও সভাপতি।
তিনি আরও দাবি করেন, ‘২০১৮ সালে বিষয়টি সমাধানের কথা বলে মাদ্রাসার সুপার আমার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে আমি তাকে ৩ লাখ টাকা দিই। কিন্তু সমস্যার সমাধান না হওয়ায় টাকা ফেরত চাই। এরপর থেকেই তিনি আমার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’
অন্যদিকে মাদ্রাসার সুপার মো. নুরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে এমপিও শিটে ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২-এর বিপরীতে ৪৬০৬ নম্বর ব্যাংক হিসাবেই সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিনের নাম রয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি জানতে পারলেও বিভিন্ন কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে বিলম্ব হয়েছে। তবে মহিউদ্দিনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখার সেক্রেটারি কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য আগামীকাল সোমবার সাংগঠনিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপারও জড়িত থাকতে পারেন। তাই তার বিরুদ্ধেও প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৯:৩৫ ● ৩১ বার পঠিত
