শনিবার ● ২৫ জুলাই ২০২৬

নার্সারির জায়গার অভাবে বেতাগীতে ব্যাহত চারা উৎপাদন ও সবুজায়ন

হোম » কৃষি » নার্সারির জায়গার অভাবে বেতাগীতে ব্যাহত চারা উৎপাদন ও সবুজায়ন
শনিবার ● ২৫ জুলাই ২০২৬


 

বেতাগীতে অপরিসর ও অরক্ষিত জায়গায় স্থাপিত উপজেলা বন বিভাগের নার্সারি। আগাছার মধ্যে বেড়ে উঠছে কিছু চারা। শনিবার দুপুরে তোলা।

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেতাগী (বরগুনা) 

বরগুনায় বেতাগী উপজেলা বন বিভাগের নার্সারির জন্য স্থায়ী জায়গা না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চারা উৎপাদন ও সবুজায়ন কার্যক্রম। একাধিকবার স্থান পরিবর্তনের পর বর্তমানে অপরিসর ও অরক্ষিত জায়গায় কোনোমতে নার্সারি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

 

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় বেতাগীতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বনায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ বছরের পর বছর নার্সারির জন্য নির্ধারিত জায়গা না থাকায় স্থানীয়ভাবে মানসম্মত চারা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

 

উপজেলা বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে উন্নতমানের চারা উৎপাদন ও বিতরণ, পরিবেশ সুরক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে বেগবান করতে ১৯৯০ সালে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের পাশে বনায়ন ও নার্সারি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে উপজেলা পরিষদের জায়গার প্রয়োজন হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি নার্সারিটি ডরমেটরি সংলগ্ন পরিত্যক্ত স্থানে স্থানান্তর করা হয়।

 

এরপর উন্নয়নকাজের স্বার্থে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে নার্সারিটি উপজেলা নির্বাচন অফিসের পেছনের পরিত্যক্ত জমিতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে রেন্ট্রি, মেহগনি, আম, কাঁঠাল, বহেরা, জাম ও অর্জুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০ হাজার চারা রাখা হয়। নতুন চারা উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয় আরও ১০ হাজার পলিব্যাগ।

 

তবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওই জায়গায় আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করা হলে আবারও নার্সারি স্থানান্তরের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বন বিভাগের অভিযোগ, তাদের না জানিয়ে ভবন নির্মাণ করায় নার্সারিতে থাকা চারা ও পলিব্যাগসহ সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

বেতাগী উপজেলা সামাজিক বনায়ন বাগান কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘দপ্তর প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই নার্সারির জায়গা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। সর্বশেষ অস্থায়ী জায়গায় ভবন নির্মাণের কারণে সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জায়গার অভাবে চারা উৎপাদন কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বর্তমানে উপজেলা পরিষদের পুরোনো ভবনের ভেতরে সাময়িকভাবে নার্সারি গড়ে তোলা হয়েছে, যা চারা উৎপাদনের জন্য উপযোগী নয়।’

 

সরেজমিনে দেখা যায়, অপরিসর ও অরক্ষিত জায়গায় আগাছার মধ্যে কিছু চারা বেড়ে উঠছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, জায়গাটি চারা উৎপাদনের জন্য উপযুক্ত নয়।

 

বৃক্ষপ্রেমী সালমা বেগম বলেন, ‘নার্সারিতে চারা উৎপাদন না হওয়ায় আমাদের বাইরে থেকে বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করে চারা সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সেই চারাগুলো মানসম্মত কি না, তা নিয়েও শঙ্কা থাকে।’

 

পরিবেশকর্মী খাইরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় সবুজায়নের জন্য স্থানীয়ভাবে মানসম্মত চারা উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নার্সারির উপযুক্ত জায়গা না থাকায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত সবুজায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

 

বরগুনা জেলার সহকারী বন সংরক্ষক নুরুন নাহার বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ থেকে রেজুলেশনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে নার্সারির জন্য জায়গা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এখানে তা না হওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্থায়ীভাবে নার্সারির জায়গা বরাদ্দের বিষয়টি জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হবে।’

 

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বেতাগী উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন খান বলেন, ‘সবুজায়নের জন্য সরকারি নার্সারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চারা উৎপাদন ব্যাহত হলে স্থানীয় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

 

উপজেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়নবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে নতুন জায়গায় অস্থায়ীভাবে নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে। চারা উৎপাদনের জন্য ভবিষ্যতে আরও ভালো ও স্থায়ী জায়গা দেওয়া যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৬:৩৬ ● ৮ বার পঠিত