শুক্রবার ● ২৪ জুলাই ২০২৬

আমতলীতে হাসপাতালে মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী ও স্বজনরা, গ্রেপ্তার-১

হোম » বরগুনা » আমতলীতে হাসপাতালে মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী ও স্বজনরা, গ্রেপ্তার-১
শুক্রবার ● ২৪ জুলাই ২০২৬


আমতলীতে হাসপাতালে মরদেহ রেখে পালালেন স্বামী ও স্বজনরা, গ্রেপ্তার-১

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)

বরগুনার আমতলীতে স্বামীর পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় সুপ্রিয়া রানী (৩৫) নামের এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করার পর মরদেহ ফেলে স্বামী ও তার স্বজনরা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে জামাতাকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার পর স্বামীর বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার সকালে সুপ্রিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে গাজীপুর বন্দরের বিমল ব্যাপারীর মেয়ে সুপ্রিয়া রানীর সঙ্গে হরিমৃত্যুঞ্জয় গ্রামের গোপাল চন্দ্র হাওলাদারের ছেলে অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় সুপ্রিয়াকে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ তার মা দেপালী রানীর।

পরিবারের অভিযোগ, গত পাঁচ বছর ধরে অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাই উত্তর হাওলাদারের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় সুপ্রিয়াকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে অজয় চন্দ্র হাওলাদার সুপ্রিয়াকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরে সুপ্রিয়া মুঠোফোনে তার মাকে মারধরের কথা জানান। কিছুক্ষণ পর অজয় চন্দ্র তার শাশুড়িকে ফোন করে জানান, সুপ্রিয়া গলায় ফাঁস দিয়েছেন।

এরপর অজয় চন্দ্র ও তার স্বজনরা সুপ্রিয়াকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর স্বামী ও তার স্বজনরা মরদেহ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের মা দেপালী রানী বাদী হয়ে অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর শুক্রবার দুপুরে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অজয় চন্দ্রের বড় বোন রমা রানী হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত সুপ্রিয়ার ১১ বছর বয়সী এক মেয়ে ও ১১ মাস বয়সী এক ছেলে রয়েছে।

নিহতের মেয়ে মিথিলা বলেন, বাবার পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় বাবা মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

নিহতের মা দেপালী রানী বলেন, ‘আমার জামাতা অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী স্বরনিকার সঙ্গে পরকীয়া করতেন। আমার মেয়ে এর প্রতিবাদ করায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি অজয় চন্দ্র হাওলাদার, স্বরনিকাসহ এ ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হাসান রাহাত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই সুপ্রিয়া মারা গেছেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। রমা রানী নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


এমএইচকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৭:৩৪ ● ৬ বার পঠিত