মঙ্গলবার ● ১৪ জুলাই ২০২৬
বরগুনার লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৩০-৪০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
হোম » বরগুনা » বরগুনার লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৩০-৪০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৩০ থেকে ৪০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। এতে মুদি, মনোহারি, ফার্মেসি, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল ও স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করলেও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো রাতে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। গভীর রাতে বাজারের নৈশপ্রহরী কয়েকটি দোকান থেকে আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী মঠবাড়িয়া ও বামনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকেও অতিরিক্ত ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। তিনটি ইউনিটের প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে বাজারের ৩০ থেকে ৪০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে মুদি, মনোহারি, ফার্মেসি, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগুনে দোকানে থাকা মালামাল, আসবাবপত্র, ব্যবসায়িক কাগজপত্র এবং কিছু ব্যবসায়ীর নগদ অর্থও পুড়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অনেক ব্যবসায়ী কয়েক বছরের সঞ্চিত পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারটি উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগে। তাদের দাবি, রায়হানপুর বা কাকচিড়া ইউনিয়নে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপস পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। ব্যবসায়ীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

পাথরঘাটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ইউনিট আনা হয়। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সংযোগের ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:০৮:৪৪ ● ৩১ বার পঠিত
