রবিবার ● ১২ জুলাই ২০২৬
বরিশালে সাতটি শিয়াল হত্যায় জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত, মামলার প্রস্তুতি বন বিভাগের
হোম » বরিশাল » বরিশালে সাতটি শিয়াল হত্যায় জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত, মামলার প্রস্তুতি বন বিভাগের
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল নগরীতে সাতটি শিয়াল পিটিয়ে ও টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করেছে বন বিভাগ। সংরক্ষিত বন্য প্রাণী হত্যার এ ঘটনায় বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এর আওতায় রোববার (১২ জুলাই) আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিভাগটি।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনা জানার পর বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেছেন। তদন্তে ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।
তিনি বলেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী রোববার (১২ জুলাই)আদালতে মামলা করা হবে।
সম্প্রতি বরিশাল নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় একদল ব্যক্তি সাতটি শিয়াল পিটিয়ে ও টেঁটাবিদ্ধ করে হত্যা করে। পরে নিহত শিয়ালগুলোর মাংস নিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হলে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে গত ২ জুলাই। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ৮ জুলাই, যখন ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সমালোচনা শুরু হলে পরে ভিডিওটি ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পাঁচটি মৃত শিয়াল মাটিতে পড়ে রয়েছে। পাশে আরও দুটি শিয়ালের চামড়া ছাড়ানো হচ্ছে। এ সময় লাঠি হাতে থাকা এক ব্যক্তি বলতে শোনা যায়, এলাকায় হাঁস-মুরগি ও ছাগল খাওয়ায় শিয়ালগুলো মারা হয়েছে। কারও প্রয়োজন হলে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানখোলা এলাকায় এসে শিয়ালের মাংস নিয়ে যেতে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক নারী জানান, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে শিয়ালের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় অনেকের হাঁস-মুরগি ও ছাগলের ক্ষতি হচ্ছিল। এ কারণে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি দল ২ জুলাই সকালে জঙ্গলে গিয়ে শিয়ালের আস্তানায় হামলা চালায়। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে শিয়ালগুলো পালানোর চেষ্টা করলে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে এবং টেঁটাবিদ্ধ করে সাতটি শিয়াল হত্যা করা হয়। পরে কয়েকটি শিয়াল জবাই করে মাংস স্থানীয় বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। অবশিষ্ট মাংস ও চামড়া মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরেক ব্যক্তি দাবি করেন, শিয়ালের মাংস খেলে বিভিন্ন রোগ ভালো হয় এমন কুসংস্কারের কারণে কয়েকজন ওই রাতে শিয়ালের মাংস রান্না করে রুটি পিঠার সঙ্গে খেয়েছেন। তবে কারা এতে অংশ নিয়েছেন বা হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী শিয়াল সংরক্ষিত বন্য প্রাণী। শিয়াল হত্যা, এর মাংস ভক্ষণ, বিক্রি বা বাণিজ্য সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিবেশবাদী ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১১:১৮:১৯ ● ১৯ বার পঠিত
