শুক্রবার ● ৩ জুলাই ২০২৬

বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে শত শত মাছধরা ট্রলার

হোম » জেলে-মৎস্য » বৈরী আবহাওয়ায় উপকূলে আশ্রয় নিয়েছে শত শত মাছধরা ট্রলার
শুক্রবার ● ৩ জুলাই ২০২৬


 

শিববাড়িয়া নদীর তীরে  আলীপুর মৎস্য বন্দর ঘাটে এভাবেই নোঙ্গর করে আছে মাছধরা ট্রলারগুলো।

সাগরকন্যা নিজস্ব প্রতিবেদক

 

বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের মুখে টিকতে না পেরে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খাল এবং উপকূলীয় মৎস্যঘাটে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে শত শত মাছধরা ট্রলার ও ফিশিংবোট। ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলেদের অনেকেই উপকূলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

 

শুক্রবার (৩ জুলাই) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত দুই দিন ধরে সাগরে তীব্র বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে। প্রবল পূবালী বাতাসের কারণে সাগরে বড় বড় ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে। উত্তাল সাগরে অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উপকূলের দিকে ছুটে আসে।

 

পটুয়াখালীর মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দরের শিববাড়িয়া নদীতেও ইতোমধ্যে শতাধিক মাছধরা ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে। গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত ট্রলারগুলো বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে নদীতে এসে নোঙর করে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জেলেরা সেখানে অবস্থান করবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

 

এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ফিশিংবোট সুন্দরবনের দুবলার চরের ভেদাখালী খাল, মেহেরআলী, আলোরকোলসহ বনের বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে নোঙর করেছে।

 

সুন্দরবনের ভেদাখালী খালে আশ্রয় নেওয়া বাগেরহাটের বগা এলাকার একটি ফিশিং ট্রলারের মাঝি নজরুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে মুঠোফোনে বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে সাগরে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে কোনোভাবেই ট্রলার টিকিয়ে রাখা যাচ্ছিল না। জীবন ও সম্পদ রক্ষার্থে দ্রুত সুন্দরবনের নিরাপদ খালে এসে আশ্রয় নিয়েছি। এখন আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আছি।’

 

শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ‘বঙ্গোপসাগর বর্তমানে অত্যন্ত দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কারণে টিকতে না পেরে কয়েকশ ফিশিং ট্রলার শরণখোলার রায়েন্দা, নিদ্রাসখিনা, পাথরঘাটাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা এবং সুন্দরবনের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে বিপুল দাদন ও ধারদেনা করে জেলেরা সাগরে গিয়েছিলেন। কিন্তু শুরুতেই এ দুর্যোগের মুখে পড়তে হয়েছে।’

 

শরণখোলার রায়েন্দা মৎস্যঘাটের আড়তদার কবির হোসেন জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক ট্রলার সাগরে না গিয়ে গত দুই দিন ধরে রায়েন্দা মৎস্যঘাটেই নোঙর করে আছে। এতে ঘাট এলাকায় ট্রলারের জটলা তৈরি হয়েছে।

 

বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েছেন। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে অধিকাংশ ট্রলার ও ফিশিংবোট এখন উপকূলের দিকে ফিরে আসছে এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সাগরে ফিরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

 

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বৈরী আবহাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হলে মাছ ধরার মৌসুমের শুরুতেই জেলেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। দীর্ঘ অবরোধ শেষে সাগরে নামলেও অনুকূল পরিবেশ না পাওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:১৬:৪৩ ● ৩৭ বার পঠিত