সোমবার ● ২৯ জুন ২০২৬

মুলাদীতে কথিত কৃষক অপহরণ পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যা, মরদেহ পুঁতে রাখার অভিযোগ

হোম » বরিশাল » মুলাদীতে কথিত কৃষক অপহরণ পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় স্বামীকে হত্যা, মরদেহ পুঁতে রাখার অভিযোগ
সোমবার ● ২৯ জুন ২০২৬


হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া কৃষক হারুন হাওলাদার। ছবি- সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মুলাদী (বরিশাল)

বরিশালের মুলাদীতে হারুন হাওলাদার (৫৯) নামে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে উপজেলার চরমালিয়া গ্রামে তাঁর বাড়ির রান্নাঘরসংলগ্ন স্থান থেকে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের বিরোধিতা করায় হারুন হাওলাদারকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে মাটিতে পুঁতে রেখে অপহরণের নাটক সাজানো হয়। পরে নিহতের ছেলেকে দিয়ে থানায় অপহরণ মামলাও করা হয়।

নিহত হারুন হাওলাদার চরমালিয়া গ্রামের মৃত অছিমদ্দিন হাওলাদারের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে হারুন হাওলাদার নিখোঁজ হন। এরপর তাঁর স্ত্রী সেলিনা বেগম দাবি করেন, অজ্ঞাতপরিচয়ের কয়েকজন ব্যক্তি হারুনের হাত-পা ও চোখ বেঁধে ট্রলারে করে তুলে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার পর শনিবার রাতে তাঁর ছেলে জাফর হাওলাদার বাদী হয়ে মুলাদী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। মামলায় প্রধান সাক্ষী ছিলেন সেলিনা বেগম।

মুলাদী থানা পুলিশ জানায়, শনিবার ভোরে সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেলাল ব্যাপারী মোবাইল ফোনে হারুন হাওলাদারের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে মুলাদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আমান বান্নার নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। ওই রাতেই জাফর হাওলাদার তাঁর মায়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে থানায় অপহরণ মামলা করেন।

ইউপি সদস্য হেলাল ব্যাপারী বলেন, ‘শনিবার ভোরে সেলিনা বেগম দাবি করেন, তাঁর স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। তবে তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এছাড়া শুক্রবার রাতে তিনি ঘরের মেঝেতে নতুন করে কাদামাটির প্রলেপ দিয়েছিলেন। এলাকার একজন নিরীহ কৃষক নিখোঁজ হওয়ায় সোমবার সকালে প্রতিবেশীরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে রান্নাঘরের পাশে নতুন মাটি দেখতে পেয়ে সেখানে পর্যবেক্ষণকালে মানুষের আঙুলের অংশ দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।’

মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, ‘অপহরণ মামলার পর থেকেই সেলিনা বেগমকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। সোমবার দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের আগেই তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিকভাবে তিনি পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মরদেহে হাতুড়ির আঘাত ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২১:১৯:১৮ ● ৩২ বার পঠিত