বৃহস্পতিবার ● ১৮ জুন ২০২৬

বাবুগঞ্জে এনজিও ঋণের প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দম্পতি উধাও

হোম » লিড নিউজ » বাবুগঞ্জে এনজিও ঋণের প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দম্পতি উধাও
বৃহস্পতিবার ● ১৮ জুন ২০২৬


 

বাবুগঞ্জে এনজিও ঋণের প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দম্পতি উধাও

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল

 

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন এনজিও থেকে স্থানীয়দের নামে ঋণ উত্তোলন করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. বাদল (৩৫) ও তার স্ত্রী নাজমিন।

 

স্থানীয়দের দাবি, গত ১৪ জুন বিকেলে ওই দম্পতি বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাদল ও নাজমিন এলাকার ২৫ থেকে ৩০ জনের নামে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ গ্রহণ করিয়ে সেই অর্থ নিজেদের কাছে রেখে হঠাৎ এলাকা ত্যাগ করেন। এতে অন্তত ৪০টি পরিবার বর্তমানে ঋণের কিস্তির চাপের মধ্যে পড়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার নারীদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে তাদের নামে ঋণ উত্তোলন করতেন। ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে কারও নামে ৩০ হাজার, কারও নামে ৬০ হাজার এবং কারও নামে ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (বিডিএস), আশা, সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ), ব্র্যাকসহ বিভিন্ন এনজিও থেকে এসব ঋণ গ্রহণ করা হয়।

 

প্রতারণার শিকার কুলসুম বেগম বলেন, নাজমিনের কথায় বিশ্বাস করে আমার ছোট দেবরের স্ত্রীর নামে ছয়টি এনজিও থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টাকা নিয়ে তারা পালিয়ে গেছে। এখন এনজিও থেকে কিস্তির জন্য আমাদের বাড়িতে আসছে। আমরা খুব বিপদে আছি।

 

সরেজমিনে কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বাদল ও নাজমিনের কথায় বিশ্বাস করে তারা ঋণ নিয়েছিলেন। বর্তমানে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ তাদের ওপরই পড়েছে।

 

স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ঘটনায় বহু পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে এবং এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

 

তবে অভিযুক্ত মো. বাদল ও তার স্ত্রী নাজমিন পলাতক থাকায় এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ওসি মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৫৬:৫৩ ● ২৫ বার পঠিত