মঙ্গলবার ● ১৬ জুন ২০২৬
বাউফলে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়, উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগ
হোম » পটুয়াখালী » বাউফলে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়, উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগ
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাউফল (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দুইজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করেছেন, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আবেদন দাখিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তাকে মারধর, ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া এবং কার্যালয়ের একটি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেন রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ইউনিয়নে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়। এরই মধ্যে একাধিক ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, তাদের সম্মতি ছাড়াই স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম হাওলাদার অভিযোগ করেন, সোমবার সকালে একদল লোক তার বাসায় গিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আবেদনে স্বাক্ষর করতে চাপ দেয়। তিনি রাজি না হলে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে তিনি ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য কুলসুম বেগম। তিনি জানান, চোখের অস্ত্রোপচারের পর বিশ্রামে থাকা অবস্থায় তার বাড়িতে গিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হয়। পরিস্থিতির কারণে তিনি স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হন বলেও অভিযোগ করেন।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উদ্যোক্তা মো. সাইফুল হাসান মামুনকে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি বলেন, তিনি স্বাভাবিক নিয়মে নাগরিক সেবা দিচ্ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তার কক্ষে প্রবেশ করে বের হয়ে যেতে বলেন। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কক্ষ ত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ নিয়ে কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী। তিনি বলেন, যা কিছু হয়েছে তা ইউপি সদস্যদের উদ্যোগে হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগ তিনি পেয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা আবেদন এবং দুই ইউপি সদস্যের জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও তার দপ্তরে এসেছে। সব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কেকে/এমআর
বাংলাদেশ সময়: ১৭:৫৫:২০ ● ২৭ বার পঠিত
