রবিবার ● ১৪ জুন ২০২৬

বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ফের চালু আইসিইউ সেবা

হোম » খুলনা » বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ফের চালু আইসিইউ সেবা
রবিবার ● ১৪ জুন ২০২৬


বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ফের চালু আইসিইউ সেবা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাগেরহাটের বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল-এ পুনরায় চালু হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) সেবা।

প্রায় দেড় বছর বন্ধ থাকার পর রোববার (১৪ জুন) বেলা ১১টায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন আইসিইউ ইউনিটটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুপ দাশ, সিভিল সার্জন ডা. আসম মাহবুবুল আলম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দারসহ হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আইসিইউ সেবা পুনরায় চালু হওয়ায় সন্তোষ ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জেলার সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের মতে, গুরুতর ও সংকটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসার জন্য এতদিন খুলনা কিংবা অন্যান্য বড় শহরের হাসপাতালের ওপর নির্ভর করতে হতো। এতে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি-সবকিছুরই চাপ বাড়ত। এখন জেলার মধ্যেই আইসিইউ সেবা পাওয়ায় রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ অনেকাংশে কমবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বলেন, একজন মুমূর্ষু রোগীর স্বজনই সবচেয়ে ভালো জানেন আইসিইউ কতটা প্রয়োজনীয়। হাসপাতালে যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন আইসিইউ সেবা বন্ধ ছিল। আজ এই সেবা পুনরায় চালুর মাধ্যমে বাগেরহাটের মানুষ চিকিৎসা ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে গেল। হাসপাতালের বিদ্যমান সংকটগুলোও পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ পরিচালনার জন্য ২৪ ঘণ্টা প্যাথলজি ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধাসহ বিশেষায়িত জনবল প্রয়োজন হয়। বর্তমানে হাসপাতালে সেই জনবল ও আর্থিক সক্ষমতার কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে সীমিত সম্পদ নিয়েও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ডায়ালাইসিস ইউনিট, সিটি স্ক্যান মেশিনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন রয়েছে। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সেবাও চালু করা সম্ভব হবে।

সিভিল সার্জন ডা. আ.স.ম. মাহবুবুল আলম বলেন, উপজেলা হাসপাতালগুলোতে জটিল রোগের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় জেলার অধিকাংশ মানুষ জেলা হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। আইসিইউ চালু হওয়ায় এখন সংকটাপন্ন রোগীরা আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, করোনা মহামারির সময় ২০২১ সালের ২৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো তিন শয্যার আইসিইউ সেবা চালু করা হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে আরও সাতটি শয্যা যুক্ত করে ২০২৩ সালের ১৪ নভেম্বর ১০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ ইউনিট উদ্বোধন করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউনিটটি সচল ছিল।

কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে আইসিইউ পরিচালনার জন্য নিয়োজিত জনবল প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ফলে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে মূল্যবান ভেন্টিলেটর, পেশেন্ট মনিটরসহ অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে। এতে যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়।

অবশেষে নতুন উদ্যোগে পুনরায় চালু হলো বহুল প্রত্যাশিত এই আইসিইউ ইউনিট।


এমই/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২১:২৮:৪১ ● ৩২ বার পঠিত