শুক্রবার ● ১২ জুন ২০২৬

মসজিদের মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে শোকজ

হোম » বরিশাল » মসজিদের মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে শোকজ
শুক্রবার ● ১২ জুন ২০২৬


 

মসজিদের মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে শোকজ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল

 

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত উপজেলা জামে মসজিদের মাইকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িচালক কামাল হোসেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গাড়িচালক মেহেদী হাসান।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ আহমেদ পৃথকভাবে তাদের বিরুদ্ধে এ নোটিশ জারি করেন।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদে নিয়মিত আজানের জন্য ব্যবহৃত চারটি মাইকের মধ্যে একটি মাইকের বিদ্যুৎ সংযোগের তার ছেঁড়ে ফেলার ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত দুই কর্মচারী নিজ উদ্যোগে মসজিদের মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তবে শুরুতে তারা উপজেলা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মসজিদের স্বাভাবিক ধর্মীয় কার্যক্রম ব্যাহত হয়। বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসন রাতেই সংযোগ পুনঃস্থাপন করে।

 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, ইমাম, মুয়াজ্জিন, জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং ওলামায়ে কেরাম ও মুসল্লিদের প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে মৌখিক অভিযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত দুই কর্মচারীকে ডেকে পাঠান।

 

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের গাড়িচালক মেহেদী হাসান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িচালক কামাল হোসেন ঘটনার দায় স্বীকার করেন। তারা উপস্থিত সবার সামনে বলেন, মসজিদের মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কোনো নির্দেশনা, সম্পৃক্ততা কিংবা ভূমিকা ছিল না। এটি তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংঘটিত হয়েছে।

 

ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। পাশাপাশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার কারণে তাদের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তারা জনসম্মুখে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান।

 

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, মসজিদের মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। এটি শুধু একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, বরং ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

 

মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন জানান, মাইকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে আজান ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।

 

এদিকে কয়েকজন মুসল্লি বলেন, উপজেলা পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থিত একটি মসজিদের সঙ্গে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের লিখিত জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ঘটনাটি বর্তমানে উপজেলাজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় মুসল্লি ও সচেতন মহল আশা করছেন, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৭:০৪:১২ ● ২৪ বার পঠিত