রবিবার ● ৭ জুন ২০২৬
গোপালগঞ্জে বিদ্যালয়ের ফ্যান ও জানালা বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি
হোম » ঢাকা » গোপালগঞ্জে বিদ্যালয়ের ফ্যান ও জানালা বিক্রির অভিযোগ, তদন্তের দাবি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নষ্ট ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের লোহার জানালা খুলে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দপ্তরি গণেশ টিকাদার ও সহকারী শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন অধিকারীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্তরা দাবি করেছেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলটন তালুকদারের নির্দেশেই এসব সামগ্রী বিক্রি করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ মে বিদ্যালয়ের চারটি নষ্ট ফ্যান এবং একটি পরিত্যক্ত ভবনের সব লোহার জানালা খুলে বিক্রি করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক মিলটন তালুকদার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিদ্যালয়ে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রতিবছর কমছে এবং অনেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাচ্ছে। টিফিন বিরতির পর অনেক সময় আগেভাগেই ছুটি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, কোনো ধরনের রেজুলেশন বা টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়াই পুরোনো বই-খাতার সঙ্গে বিদ্যালয়ের নষ্ট ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের জানালাগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযুক্ত দপ্তরি গণেশ টিকাদার বলেন, আমি সামান্য পদে চাকরি করি। নিজে থেকে এসব বিক্রি করার কোনো অধিকার আমার নেই। প্রধান শিক্ষক মিলটন তালুকদারের নির্দেশেই এগুলো বিক্রি করেছি।
সহকারী শিক্ষক বিপদ ভঞ্জন অধিকারী বলেন, ওইদিন প্রধান শিক্ষক আমাকে ফোন করে বলেন, দপ্তরি বই-খাতা বিক্রি করবে, আমি যেন সেখানে উপস্থিত থাকি। তাঁর নির্দেশেই বিক্রির সময় সেখানে ছিলাম। বই-খাতা বিক্রির সময় বিদ্যালয়ের নষ্ট চারটি ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের জানালাও বিক্রি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিলটন তালুকদার বলেন, পুরোনো বই-খাতা বিক্রির জন্য দপ্তরিকে বলা হয়েছিল। কিন্তু এর সঙ্গে বিদ্যালয়ের ফ্যান ও পরিত্যক্ত ভবনের জানালা খুলে বিক্রির বিষয়টি আমি জানি না।
তবে জানালা ও ফ্যান বিক্রির ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্বে রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:২১:০৫ ● ৩২ বার পঠিত
