রবিবার ● ২৪ মে ২০২৬
দুমকিতে তালের শাঁসে মিলছে গরমের স্বস্তি
হোম » পটুয়াখালী » দুমকিতে তালের শাঁসে মিলছে গরমের স্বস্তি![]()
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দুমকি (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার হাটবাজার ও সড়কের বিভিন্ন জায়গায় জমে উঠেছে গ্রীষ্মের জনপ্রিয় ফল কচি তালের শাঁসের বিক্রি। তীব্র দাবদাহে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে ও সাময়িক স্বস্তি পেতে সব বয়সী মানুষের কাছে বেড়েছে এর কদর। মৌসুমি এ ফল বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও।
উপজেলার দুমকি বাজার, নতুন বাজার, থানা ব্রিজ, লেবুখালী পাগলা গোলচত্বর, বোর্ড অফিস বাজার, তালুকদার বাজার, পাঙ্গাশিয়া মাদরাসা ব্রিজ, আঙ্গারিয়া বন্দর ও চরগরবদি ফেরিঘাট এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কচি তাল বিক্রি করতে দেখা যায় মৌসুমি বিক্রেতাদের। গরমে স্বস্তি পেতে ক্রেতাদের ভিড়ও চোখে পড়ার মতো।
উত্তর শ্রীরামপুর গ্রামের বিক্রেতা মো. ফারুক হোসেন জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ মালিকদের কাছ থেকে চুক্তিতে কচি তাল কিনে এনে বিক্রি করেন তিনি। প্রতিটি গাছের জন্য ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। তবে আগের তুলনায় তালগাছ কমে যাওয়ায় এখন দূর-দূরান্ত থেকে তাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
থানা ব্রিজ এলাকার বিক্রেতা মো. মুসা খান বলেন, আকারভেদে প্রতিটি কচি তাল ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরমে চাহিদা বেশি থাকায় ভালো বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। স্থানীয় শিক্ষিকা ফাতেমা জাহান বলেন, তালের শাঁস খুব সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর। বাচ্চারাও খুব পছন্দ করে। তাই প্রায়ই কিনে বাড়িতে নিয়ে যাই।
দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহিদুল হাসান শাহীন বলেন, তালের শাঁসে প্রচুর পানি, খনিজ লবণ ও খাদ্যআঁশ রয়েছে। এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে, হজমে সহায়তা করতে এবং গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে উপকারী।
তবে স্থানীয়দের মতে, একসময় গ্রামাঞ্চলে প্রচুর তালগাছ থাকলেও এখন তা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে। সচেতন মহল বলছেন, বজ্রপাত প্রতিরোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তালগাছ সংরক্ষণে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৩:১৭ ● ২৪ বার পঠিত
