শুক্রবার ● ১৫ মে ২০২৬
আলী হত্যার বিচার দাবিতে তালতলীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
হোম » বরগুনা » আলী হত্যার বিচার দাবিতে তালতলীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আমতলী (বরগুনা)
বরগুনার তালতলী উপজেলার এতিম কিশোর হযরত আলী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তালতলীর চরপাড়া বাজারে হরিণখোলা ও চরপাড়া এলাকার শত শত নারী-পুরুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহল অর্থ ও প্রভাব খাটিয়ে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, মামলার ২ নম্বর আসামি বশির ঘটনার আগে হুমকিসূচক মন্তব্য করে বলেছিল, হাসপাতালের প্রভাব ব্যবহার করে ময়নাতদন্ত রিপোর্টও নিজেদের মতো করে বদলে ফেলা সম্ভব।
এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বক্তারা বলেন, এতিম হওয়ায় হযরত আলীর পরিবারকে দুর্বল ভেবে একটি চক্র বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এলাকাবাসী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো প্রভাব বা অর্থের জোরে এ হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে দেওয়া হবে না।
মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের চাচা হাবিব মুসল্লি বলেন, আমার ভাতিজা এতিম ছিল। ওর বাবা নেই বলেই কি তার হত্যার বিচার হবে না? আমরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ সময় উপস্থিত জনতা ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’, ‘সুষ্ঠু বিচার চাই’- এমন স্লোগানে পুরো চরপাড়া বাজার উত্তাল করে তোলে।
বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সব আসামির গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল ফুটবল খেলার সময় একটি গরুর বাছুরের ওপর বল পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গরুর মালিক মুছা নামের এক ব্যক্তি এতিম হযরত আলীকে মারধর করেন। পরদিন ২৬ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় হযরত আলী মারা যান।
ঘটনাটিকে শুরুতে অপমৃত্যু হিসেবে দেখানো হলেও পরে নিহতের পরিবার ১৭ দিন পর আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি তালতলী থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
তালতলী থানার ওসি মোঃ সাইদুল ইসলাম জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না; সত্য উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৫:৪৬:১৪ ● ৩০ বার পঠিত
