ব্যাংক এবং সঞ্চয়পত্রে সরকারের দায় বাড়ছে

প্রথম পাতা » লিড নিউজ » ব্যাংক এবং সঞ্চয়পত্রে সরকারের দায় বাড়ছে
বুধবার ● ১৬ জানুয়ারী ২০১৯


প্রতীকী ছবি

সাগরকন্যা এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট॥
জাতীয় সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে সরকারের বাজেট ঘাটতির বড় অংশেরই জোগান হচ্ছিল। তাতে সরকারকে আর ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়ার প্রয়োজন হচ্ছিল না। কিন্তু এখন সরকারকে সঞ্চয়পত্রে সুদ বাবদ দ্বিগুণ ব্যয় করতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে সরকারের উপর চাপ বাড়বে। পাশাপাশি ব্যাংক খাতের দায়ও সরকারের উপর চাপ বাড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। আগে সঞ্চয়পত্র বেশি বিক্রি হওয়ায় সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রমের ব্যয় মিটে যেত। ফলে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণের প্রয়োজন হতো না। তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রির ধারা একইরকম থাকলেও ব্যাংকিং খাত থেকেও ধার করছে সরকার। গত অর্থবছর থেকে এ প্রবণতা শুরু হয়েছে। ফলে সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতেও সরকারের দায় বাড়ছে। আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ৬৮ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এ সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের শেষদিন ৩০ জুনে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল ৬৪ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত ৬ মাসে বেড়েছে ৪ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জুন শেষে সরকারের ঋণ স্থিতি ছিল ২৩ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। গত ৬ মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৮ হাজার ৪১২ কোটি টাকা ধারা করেছে সরকার। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকিং খাতের কাছে এখন সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ক্রমেই বাড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ। চলতি অর্থবছরের (জুলাই-নভেম্বর) প্রথম ৫ মাসে ২১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। যা চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রির মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮২ দশমিক ৬৯ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। মূলত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে ব্যাংকের আমানতের সুদের চেয়ে দ্বিগুণ মুনাফা মিলছে। একারণেই সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়ছে। তবে সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বেশি হওয়ায় সরকারের দায়ও বাড়ছে বেশি।
সূত্র জানায়, বেসরকারি খাতের ঋণের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে বেশিরভাগ ব্যাংকই তারল্য সংকটে পড়েছে। এ সংকটের কারণে সুদহার হু হু করে বাড়তে থাকে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী বাড়তে থাকা সুদহারে লাগাম টানেন ব্যাংকের মালিকরা। গত জুলাই মাস থেকে আমানতে সর্বোচ্চ ৬ এবং ঋণে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ কার্যকরের ঘোষণা দেয়া হয়। যদিও এখনো অনেক ব্যাংক সে নির্দেশনা মানছে না। সুদহার কমালে ঋণের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়ে তারল্যের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবার আশঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার বেশি ঋণ নিলে তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে। এই সময়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা ব্যাংকগুলোর ফান্ড ম্যানেজমেন্টের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সূত্র আরো জানায়, অর্থ ছাড়ে সময় লাগে কিন্তু দৈনন্দিন কাজে অর্থের প্রয়োজন হলেও শুরুতেই আয় হয় না। তাই সবসময় অর্থবছরের শুরুর দিকে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ বাড়ে। বিভিন্ন প্রকল্প ও বরাদ্দের অর্থ পাওয়ার পর সেখান থেকে প্রয়োজন মেটানো ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করা হয়, যার ফলে শুরুতে বাড়লেও পরবর্তী সময়ে তা কমে যায়। মূলত বড় বড় প্রকল্প যেমন পদ্মা সেতু, এলএনজি টার্মিনাল, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অগ্রগতির ফলে সরকারের প্রচুর নগদ অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।
এদিকে ব্যাংক থেকে পুরো অর্থবছরে কত টাকা ঋণ নেয়া হবে সে বিষয়ে বাজেটে উল্লেখ থাকে। সাধারণত প্রতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক খাত থেকে কমবেশি ঋণ নিয়ে আসছে। তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ব্যাংক খাত থেকে কোন টাকা ঋণ নেয়নি সরকার। ওই অর্থবছরে উল্টো বকেয়া পরিশোধ করেছিল। মূলত সঞ্চয়পত্র থেকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্থের যোগান আসায় ব্যাংক থেকে সেবছর ঋণ নেয়নি সরকার।

বাংলাদেশ সময়: ৯:৫৩:২৬ ● ৬৪৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ