বৃহস্পতিবার ● ৩০ এপ্রিল ২০২৬

কলাপাড়ায় বৃষ্টির পানিতে পাকা ধান নষ্টের শঙ্কা, বিপাকে কৃষক

হোম » কৃষি » কলাপাড়ায় বৃষ্টির পানিতে পাকা ধান নষ্টের শঙ্কা, বিপাকে কৃষক
বৃহস্পতিবার ● ৩০ এপ্রিল ২০২৬


 

কলাপাড়ায় বৃষ্টির পানিতে পাকা ধান নষ্টের শঙ্কা, বিপাকে কৃষক

মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় টানা দুই দিনের ঝড়ো হাওয়া ও প্রবল বজ্রবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাকা ধানক্ষেতে পানি জমে থাকায় এখনো অধিকাংশ কৃষক ফসল ঘরে তুলতে পারেননি। অনেক ক্ষেতে ধানে অঙ্কুর গজিয়েছে, কিছু ইতোমধ্যে নষ্টও হয়ে গেছে। এর সঙ্গে ধানের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা চরম লোকসানের আশঙ্কায় পড়েছেন।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানক্ষেতে পানি জমে রয়েছে। দ্রুত পানি না নামলে আরও ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। বর্তমানে ধান ৭০০-৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

 

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গুটাবাছা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম খান জানান, তাঁর এক কানি (আট বিঘা) জমির ধান এখনো মাঠে পড়ে আছে। পাকা ধান ঝরে গেছে, আবার পানিতে ডুবে থাকায় মেশিন দিয়ে কাটা যাচ্ছে না। কাটা ধানের অনেক অংশে অঙ্কুর গজিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রামের শতাধিক কৃষকের অন্তত ২০০ একর জমির ধান এখনো কাটা সম্ভব হয়নি। অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি।’

 

তিনি আরও জানান, এক কানি জমিতে চাষাবাদে প্রায় ১১-১২ হাজার টাকা, রোপণে ১৪-১৫ হাজার টাকা, সেচ, সার ও কীটনাশকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা এবং কাটা-মাড়াইয়ে ১৭-১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৩-৯৫ হাজার টাকা। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতি কানি জমিতে ১৬০-১৭০ মণ ধান পাওয়ার কথা থাকলেও এবার অর্ধেক পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

 

কৃষকদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট মেশিন ও নির্দিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে ধান কাটতে ও বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে, যা তাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। এছাড়া কিছু স্থানে খালে মাছ ধরার জন্য বাঁধ দেওয়ায় পানি নামতে পারছে না, ফলে জমিতে জলাবদ্ধতা আরও বেড়েছে।

 

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান জানান, এ বছর উপজেলায় ৪ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে এখনো প্রায় ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি। হঠাৎ ভারি বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মাঠ পর্যায়ে সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনেক এলাকায় ধানক্ষেতে পানি জমে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি।

 

খেপুপাড়া আবহাওয়া রাডার স্টেশনের তথ্যমতে, গত ২৮ এপ্রিল দুপুর থেকে ৩০ এপ্রিল সকাল পর্যন্ত এলাকায় মোট ২৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে। পানি নিষ্কাশনে কেউ বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:২৫:২০ ● ২২ বার পঠিত